কর্ণফুলীতে সৌন্দর্য বর্ধনের আড়ালে সওজ–সিডিএ'র জমিতে ৭ তলা ভবন

রেজাউল করিম রেজা , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলী উপজেলার চরপাতরগাড়া মাজ্জ্যারটেক এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) মালিকানাধীন জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘সৌন্দর্য বর্ধন’-এর নামে সরকারি অনুমতি (এনওসি) নিলেও নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে তিনি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১১ জুন সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্যে সিডিএ থেকে এনওসি নেন আব্দুল মান্নান। ওই অনুমোদনে গাছ লাগানো, উন্মুক্ত স্থান সংস্কার ও পরিবেশ সৌন্দর্যবর্ধনের মতো সীমিত কার্যক্রমের কথা উল্লেখ থাকলেও তা উপেক্ষা করে অনুমোদনবিহীন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়।

বর্তমানে ভবনের একাধিক দোকান ও কক্ষ ভাড়া দিয়ে নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, “এটা যে সিডিএর জমি, তা সবারই জানা। সৌন্দর্য বর্ধনের অনুমতি নিয়ে কীভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ হলো—এর জবাব সিডিএকে দিতে হবে।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিটি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জমির দাগ ও মৌজার বিবরণ

অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত স্থাপনাটি চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্ণফুলী থানাধীন চরপাথরঘাটা মৌজার আরএস দাগ নং ১৪৬১ (অংশ), ১৪৬২ (অংশ), ১৪৫৯ (অংশ) এবং বিএস দাগ নং ১৪৭৫ (অংশ) ও ১৪৬০ (অংশ)-এর তপশিলভুক্ত সিডিএর জমিতে অবস্থিত।

অননুমোদিত ভবনের বিবরণ

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, ওই জমিতে একাধিক অননুমোদিত স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

সেমিপাকা ভবন:

উত্তরে ১৮.৫৯ মিটার, দক্ষিণে ১৮.৫৯ মিটার, পূর্বে ৬.৭০ মিটার, পশ্চিমে ৬.৭০ মিটার এবং উচ্চতা ৩.০৫ মিটার।

একতলা ভবন:

উত্তরে ১৩.৮৬ মিটার, দক্ষিণে ৪.২৬ + ৯.৬০ মিটার, পূর্বে ৭.০০ মিটার, পশ্চিমে ৩.৮৮ + ৩.১২ মিটার এবং উচ্চতা ৩.০৫ মিটার।

ছয়তলা ভবন:

উত্তরে ১২.২৬ ও ৬.০০ মিটার, দক্ষিণে ১৩.৮৬ মিটার, পূর্বে ১৫.৪৬ মিটার, পশ্চিমে ৩.১২ মিটার এবং মোট উচ্চতা প্রায় ১৮.০০ মিটার।

সিডিএর অবস্থান

এ বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যানের দপ্তরে যোগাযোগ করলে জানা যায়, ঘটনাটি তদন্তের জন্য দুই কর্মকর্তা হাসান ও তানজিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত দিনে কোনো ধরনের সরেজমিন তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ধারাবাহিক অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কর্ণফুলী থানাধীন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল মান্নান গং ওই সিডিএ'র জমিতে ৭ তলা বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেন। চলতি বছরের ২০ আগস্ট ভবন অপসারণের নির্দেশ দিয়ে সিডিএ কর্তৃপক্ষ লিখিত চিঠি দিলেও তা মানা হয়নি।

এ বিষয়ে প্রতিদিনের কাগজকে দেওয়া বক্তব্যে আব্দুল মান্নান বলেন, “জমি আমার। কিছু অংশ সরকারি খাস থাকতে পারে। জায়গাটি আমার দখলেই আছে। আমি আইনি লড়াই করব।”

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য সচিব তানজিব হোসেন জানান, বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভবনের সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত সিডিএ চেয়ারম্যানের সরাসরি হস্তক্ষেপ, জমি পরিমাপ ও নথিপত্র যাচাই এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement

Link copied!