ময়মনসিংহ নগরীসহ জেলার ১৪টি থানা এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুতই বিশেষ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্প্রতি সালিশ দরবারের নামে ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগ বাড়ায় বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও ঈশ্বরগঞ্জ, ত্রিশাল, ভালুকা ও সদর উপজেলার বাস টার্মিনাল, নির্মাণাধীন প্রকল্প এবং পরিবহন খাতে একটি চক্র নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে ইতোমধ্যে চিহ্নিত চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, চারটি উপজেলায় চাঁদাবাজদের তালিকা এখন গোয়েন্দা পুলিশের হাতে রয়েছে। ভালুকা, ত্রিশাল, সদর ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৯০ জন চাঁদাবাজের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকার ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে শিগগিরই অভিযান শুরু হবে।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ-আল মামুন বলেন, “চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। খুব শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।”
এদিকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
প্রশাসন জানিয়েছে, চাঁদাবাজি রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি হটলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে চাঁদাবাজদের তথ্য গোপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই উদ্যোগে নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :