অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশ ও প্রশাসনে দীর্ঘদিন নীরবে থাকা একদল কর্মকর্তা হঠাৎ প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন—এমন অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের ভেতর থেকেই। অভিযোগকারীদের দাবি, বিশেষ একটি গোষ্ঠীর অনুগত এসব কর্মকর্তা গত দেড় বছরে পদোন্নতি ও পদায়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অগ্রাধিকার পেয়েছেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে যেসব আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন, সেখানে দায়িত্ব পালনকারী ওসি, পুলিশ সুপার ও ডিসিদের কার্যক্রম নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে আলাদা মূল্যায়ন চলছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, পদোন্নতি ও ‘প্রাইস পোস্টিং’-এ বিশেষ গোষ্ঠীর একচ্ছত্র প্রভাব ছিল।
বঞ্চিত ও হয়রানির শিকার কর্মকর্তাদের একটি অংশের অভিযোগ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা প্রশাসন ও পুলিশ কাঠামোয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, পুলিশ ক্যাডারের ১৫, ১৮ ও ২০ ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয় এবং অনেককে অগুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব স্পষ্ট ছিল। নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে পদোন্নতি প্রক্রিয়ায়ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও ২০তম ব্যাচের যুগ্ম সচিবদের অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি প্রায় এক বছর বিলম্বিত হয়।
এছাড়া, জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটির রিভিউ সুপারিশও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এরই মধ্যে ২১তম ও ২২তম ব্যাচ অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছেন এবং ২৫তম ব্যাচ যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির উপযুক্ত হয়েছেন।
কর্মকর্তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসনের বহু সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছে। টার্গেট করে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও অপপ্রচারের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়। এতে প্রশাসনের স্বাভাবিক গতিশীলতা ব্যাহত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএএসএ) প্রশাসনের ভেতরে দীর্ঘদিন সক্রিয় বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব খতিয়ে দেখে তালিকা প্রস্তুতের উদ্যোগ নিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক কারণে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে দ্রুত রিভিউ ও পদায়ন নিশ্চিত না করলে প্রশাসনে নিরপেক্ষতা ফিরবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে শেখ আবদুর রশীদ-এর চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের পর প্রশাসনে বদলি আতঙ্ক বেড়েছে বলে কর্মকর্তাদের একটি অংশের দাবি। একই সঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে কিছু কর্মকর্তা নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণের চেষ্টায় রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
প্রশাসনের সাধারণ কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা—দলনিরপেক্ষ, পেশাদার ও দক্ষ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রশাসনে স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য ফিরে আসুক।
আপনার মতামত লিখুন :