নামে-বেনামে সম্পত্তির মালিক সাবেক শিক্ষা প্রকৌশলী আবু তাহের

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর)-এর পঞ্চগড়ের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের-এর বিরুদ্ধে পাহাড়সম অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নামে-বেনামে শতকোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আবু তাহের রংপুর মহানগরীর মুন্সিপাড়া এলাকায় মাদ্রাসা রোডে স্ত্রীর নামে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের জমি ক্রয় করেন এবং সেখানে বহুতল ভবনের পাঁচতলা পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের কাজ সম্পন্ন করেন। এছাড়া শালবন মৌজায় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের জমি কিনে দ্বিতীয়তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ির এলাকায় আনুমানিক ১৬ কোটি টাকা মূল্যের ৬২ বিঘা জমি ক্রয়ের তথ্যও অভিযোগে উঠে এসেছে।

এছাড়া ডোমার কলেজ রোড এলাকায় তার দুটি বাড়ি এবং ডোমার শহরের প্রাণকেন্দ্রে সাড়ে ৬ শতক জমির মালিকানার অভিযোগ রয়েছে, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আবু তাহের তদবির বাণিজ্য, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, কাজ না করেই বিল প্রদান এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, পঞ্চগড়-এ ২০২৩ সালের ৬ জুন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কার ও সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণের জন্য ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কাজ শুরু হয়নি। এরই মধ্যে ঠিকাদার ৯৫ শতাংশ বিল উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়ের সামনে মাটি ভরাটের কাজে কার্যাদেশে ‘মাটি’ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে বালি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ না হলেও প্রায় ৭৫ শতাংশ বিল উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন ভবন নির্মাণ প্রকল্পে স্টিল শাটারিংয়ের পরিবর্তে কাঠের শাটারিং ব্যবহার করেও স্টিল শাটারিংয়ের বিল দেওয়া হয়েছে। এক ঠিকাদারের ভাষ্য, “টাকা ছাড়া কিছুই চিনতেন না নির্বাহী প্রকৌশলী।”

পূর্বের অভিযোগগুলোতেও উঠে এসেছে, নীলফামারী-এ সহকারী প্রকৌশলী থাকাকালীন সময়েও আবু তাহের কাজ না করেই প্রায় ১০ কোটি টাকার বিল প্রদান, স্বজনদের মাধ্যমে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ এবং অগ্রিম বিল প্রদানের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত হয়েছিল। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মিললেও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বদলি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বিল, কার্যাদেশ ও প্রোগ্রেস রিপোর্ট পর্যালোচনা করলেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য আবু তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Link copied!