সিরাজগঞ্জে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে সম্প্রতি একটি প্রকল্পেই ৩৫ লাখ ৩৮ হাজার ৬৫১ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
জেলার তাড়াশ উপজেলাধীন টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ ভদ্রাবতী ও উত্তর ভদ্রাবতী খাল পুনঃখনন কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্দেশে পাবনা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম কয়েক দফায় সরেজমিন তদন্ত করেন। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) (দুর্নীতি দমন কমিশন) বিষয়টি পরিদর্শন করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, পরিপত্র উপেক্ষা করে প্রকল্পের খননকাজ সম্পূর্ণভাবে এস্কেভেটরের মাধ্যমে যন্ত্রভিত্তিকভাবে সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া ভুয়া মাস্টাররোলে মৃত ব্যক্তিদের ‘জীবিত’ এবং প্রবাসীদের শ্রমিক দেখিয়ে বিল প্রদান করা হয়। এভাবে ৩৫ লাখ ৩৮ হাজার ৬৫১ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী তারেক আজিজসহ হিসাব ও বিল সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ লোপাটের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল-ভারাঙ্গা এলাকায় টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি স্থানে নামমাত্র হেরিংবোন কাজ করা হয়। এছাড়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রায় ৩০ কোটি টাকার মেরামত ও সংস্কার কাজের চূড়ান্ত বিল পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে। এসব কাজের মধ্যে তাড়াশ-কুন্দইল-বারুহাস সড়ক, রায়গঞ্জের নিমগাছি-সলঙ্গা সড়ক, কাজীপুরের মনসুরনগর ইউনিয়ন-ছালালহাট সড়ক, ৮১ মিটার পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, সোনামুখী-ভানুডাঙ্গা সড়কসহ একাধিক প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে কামারখন্দ উপজেলা পরিষদ পুকুর ও বলরামপুর আদর্শগ্রাম পরিষদ পুকুর উন্নয়ন প্রকল্পে নামমাত্র কাজ হলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, বিভাগীয় তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললেও অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ ও উত্তর ভদ্রাবতী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অধিদপ্তর তদন্ত করেছে, এ নিয়ে আর কিছু বলতে চান না।
এ প্রসঙ্গে পাবনা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ভদ্রাবতী খাল পুনঃখননে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নিকট পাঠানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবু সালেহ মো. হানিফ-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :