কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার হাওরাঞ্চলে এক কৃষকের কাঁচা মরিচ ও রসুনের ক্ষেত রাতের আঁধারে কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিনের কষ্ট, শ্রম আর স্বপ্নে লালিত ফসল মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছেন কৃষক ও তাঁর পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সালুয়া ইউনিয়ন-এর উত্তর মাইজপাড়া হাওরে। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উত্তর মাইজপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ কামাল উদ্দিন (৬২)-এর কয়েক শতাংশ জমির কাঁচা মরিচ ও রসুনের গাছ কেটে নষ্ট করে দেয় দুর্বৃত্তরা।
কৃষক কামাল উদ্দিন জানান, "প্রখর রোদে হাওরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আমি নিজের হাতে ফসল ফলিয়েছি। আর সেই ফসল রাতের আঁধারে কেটে নষ্ট করে দিলো। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।" নষ্ট হয়ে যাওয়া মরিচ ও রসুনের গাছ হাতে নিয়ে তাঁর আহাজারিতে পুরো হাওর এলাকা যেন ভারী হয়ে ওঠে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দু'একদিন আগে রাতের বেলায় হাওরে কয়েকজন যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাদের সেখানে না আসতে বলেন। ওই যুবকেরা জানান, তারা সেখানে মাদক সেবন করতে আসেন। পরে কৃষক বিষয়টি তাদের পরিবারের সদস্যদের অবগত করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত যুবকেরা তাঁর বাড়িতে এসে জমির ফসল নষ্ট করার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। হুমকির পরদিনই রাতের আঁধারে তাঁর ক্ষেত কেটে নষ্ট করা হয়।
স্থানীয়রা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, "হাওরাঞ্চলের কৃষকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই ফসল ফলান। সেখানে এ ধরনের নাশকতা কৃষকদের জন্য বড় আঘাত।"
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ইয়াসিন খন্দকার বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে প্রশাসন থাকবে।"
তবে কৃষক কামাল উদ্দিন সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। হাওরের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে এখন আর সবুজ মরিচের গাছ বা রসুনের সারি নেই—রয়ে গেছে কেবল এক কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের নিঃশব্দ কান্না।
আপনার মতামত লিখুন :