তিন কোটি টাকার চেকের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নের কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত মির্জা সোবেদ আলী রাজা এবার দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল ইসলাম।
খায়রুল আলম রফিকের দাবি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তিন কোটি টাকার চেক দিয়ে ডিসি পদায়নের নামে একটি চক্র প্রতারণা করত, যার সঙ্গে সোবেদ আলী রাজাসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন।
এ বিষয়ে দৈনিক কালবেলা ও প্রতিদিনের কাগজ-এ সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই রাজা–শহীদ চক্র তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা শহীদুল ইসলাম খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
বিষয়টি চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর আমলে নিয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তদন্তের জন্য পাঠায়। পরে সিনিয়র সহকারী কমিশনার শফিকুল ইসলাম তদন্ত করে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাননি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি; অভিযোগটি অমূলক ও ভিত্তিহীন।
এদিকে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধের দাবিতে শহীদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক এবং পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিককে চার সপ্তাহের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল ইসলাম জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ছাত্রনেতা রেজাউল করিম রেজা বাদী হয়ে ময়মনসিংহের ১ নম্বর আদালতে মানহানি মামলা করেন। পরবর্তীতে গত ৭ মার্চ পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মোজাম্মেল হক মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলার তিন নম্বর আসামি ছিলেন মির্জা সোবেদ আলী রাজা।
জানা গেছে, যশোর উপশহরে একটি প্রিন্টিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সোবেদ আলী রাজা । পরে ঢাকায় এসে তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন । মিরপুর মডেল থানা একটি প্রতারণা মামলায় তিনি কারাভোগও করেছেন।
খায়রুল আলম রফিক বলেন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল ইসলাম এর আগেও তথ্য সচিব ও চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন। তখনও তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এরপর বিভিন্ন চক্রান্তে ব্যর্থ হয়ে নতুন করে রীড করা হয়েছে।
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার সাবেক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রতন তার ভেরিফাই ফেসবুকে লিখেছেন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পত্রিকাটি তার ছোট বোন ইয়াসমিন শীলার নামে হস্তান্তর করেন। সেই থেকে ইয়াসমিন শীলা প্রকাশক- সম্পাদক এবং তিনি তার স্বামী খায়রুল আলম রফিক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, আমি জেলা প্রশাসক কার্যালয় লিখিতভাবে অবগত করে রেখেছি।
খায়রুল আলম রফিক বলেন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ সারাদেশে জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য সংবাদপত্র হিসেবে পাঠকমহলে পরিচিত। পত্রিকাটির জনপ্রিয়তা ও সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি জানান, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পত্রিকাকে হেয় করার চেষ্টা করেছে, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত জবাব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :