ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু: গাজীপুরের লাইফ কেয়ার হাসপাতাল সিলগালা

রুহুল আমিন সুজন , স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০৯ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা চৌরাস্তার লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রুমা (২৬) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর পরই হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেছে বলে নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন। সিজারে সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর মাথায় কাঁটা দাগ থাকলেও বাচ্চাটি সুস্থ আছে।

নিহত রুমা শ্রীপুর উপজেলার উজিলাব গ্রামের মো. মানিক মিয়ার স্ত্রী এবং পটকা গ্রামের আব্দুর রশিদ ও সালেহা বেগমের কন্যা।

নিহতের স্বজনরা জানান, গত ৮ মার্চ সকালে প্রসব ব্যথা নিয়ে রুমা মাওনা চৌরাস্তার লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং তার একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রুমার পরিবারকে জানিয়েছিল যে অস্ত্রোপচারের সময় রুমা জীবিত ছিলেন।

তবে, মৃত বিষয়টি গোপন রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রুমাকে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে তাদের না জানিয়ে ঢাকায় পাঠায়। ঢাকা নেওয়ার পথে রুমা মারা গেছে এমন সংবাদ রোগীর স্বজনদের দেওয়া হয়। স্বজনদের ধারণা, রুমা আগেই মারা গিয়েছিলেন। এরপর লাইফ কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্বজনরা ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বহীনতার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না পেয়ে একপর্যায়ে হাসপাতাল ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করেন তারা। এ ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পলাতক রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা শ্রীপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভাঙচুর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসিম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং রোগীর স্বজনদের আশ্বস্ত করে বলেন, ঘটনার সত্যতা ও তদন্ত সাপেক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনার পরপর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালটিতে ইতিপূর্বেও এরকম ঘটনা ঘটেছে এবং এই হাসপাতালের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তাই বর্তমান ঘটনার পর হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হবে।

Advertisement

Link copied!