শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডের নতুন কূপ থেকে দৈনিক ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে

এম কে আই জাবেদ , মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রে ৫ নম্বর কূপ উদ্বোধন করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলার শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের (মুকলিশপুর) এলাকায় এই নতুন কূপের উদ্বোধন করা হয়। এই কূপ থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ৮ এমএমসিএফডি (মিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস যুক্ত হবে। এর ফলে মুরাদনগরের শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের পাঁচটি কূপ থেকে এখন প্রতিদিন মোট ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির কারণে বিগত সরকার দেশের জ্বালানি খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে গেছে। ফলে বৈশ্বিক সংকট দেখা দিলেই দেশের জ্বালানি খাত চাপে পড়ে। তাই সরকার নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বাবলম্বী হলে যেকোনো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে। বিগত সরকার বাপেক্সকে কার্যত পঙ্গু করে রেখেছিল, যার ফল এখন ভোগ করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে ও প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চায়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে গ্যাসের চাহিদা সাড়ে চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাবে। সরকার নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকেই এই চাহিদা পূরণের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইফুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক, পেট্রোবাংলার ডিরেক্টর (অপারেশনস) রফিকুল ইসলাম, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফজলুল হক ও প্রকল্প পরিচালক মোজাম্মেল হক, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুর রহমান, বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি আব্দুল কাদের, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন অঞ্জন এবং বাপেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্র কূপ-৫ এর উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল বাতিন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কূপটি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে। গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়। তবে নানা জটিলতায় এটি চালু করার উদ্যোগ থমকে ছিল। কূপটি থেকে আগামী ১০ বছর গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কূপটিতে আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস মজুত রয়েছে; যার মধ্যে প্রায় ২৮ বিসিএফ উত্তোলনযোগ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Link copied!