বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর এক তদন্ত প্রতিবেদনে পার্বতীপুর ডিপোতে দায়িত্ব পালনকারী একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে এসেছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, পার্বতীপুর ডিপোতে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে মোঃ আবু সালাম, মোঃ রাজিউর রহমান, মোঃ আলতাফ হোসেন ও মোঃ নজরুল ইসলাম ও তৎকালীন ডিপো ইনচার্জ আহসান বিন তমালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনার পরে অনেকেই কর্মস্থলে যোগদান না করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, তারা নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে প্রধান কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে পার্বতীপুরেই অবস্থান করার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের দুর্নীতির ঘটনায় প্রমাণিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি এবং
সংশ্লিষ্টরা কর্মস্থলে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং সেই স্থানেই পুনরায় অবস্থান ধরে রাখতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন। এতে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আরও জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, চট্টগ্রামভিত্তিক এক সিবিএ নেতার প্রভাবের কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কর্মকর্তারা দ্বিধায় রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে। অভিযোগে তেল ঘাটতি, হিসাবের অসঙ্গতি, নিয়োগে অনিয়ম ও দায়িত্ব বণ্টনে অনিয়মের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরতদের বদলি এবং দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া অস্থায়ী ও আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে ডিপোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিপিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করা হবে।
এ বিষয়ে যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির মাসুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :