মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ: খাইশি লিনজেরিতে ছাঁটাই আতঙ্ক

নুর হোসেন মিয়া , মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

চট্টগ্রামের মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বেপজা ইকোনোমিক জোনে চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান খাইশি লিনজেরি বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডে শুক্রবার (২২ মে) থেকে টানা শ্রমিক বিক্ষোভ চলেছে।

প্রতিষ্ঠানের এইচআর-এডমিন বিভাগের কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার মুক্তার পদত্যাগ এবং স্থানীয় শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের আতঙ্ককে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের কমার্শিয়াল ম্যানেজার ও দোভাষী মোহাম্মদ জামান উল্ল্যা মালিকপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন এবং স্থানীয় শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা করছেন। বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের দাবি, জামান উল্ল্যা নিজ আত্মীয়-স্বজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই স্থানীয় শ্রমিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া নারী শ্রমিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য করা এবং টিফিন ও খাবার সরবরাহ নিয়ে জটিলতার অভিযোগও তুলেছেন শ্রমিকরা।

 তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদ জামান উল্ল্যা দাবি করেছেন, এইচআর কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার মুক্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

 অন্যদিকে, পদত্যাগ করা কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার মুক্তা অভিযোগ করেছেন, তাকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ স্থানীয় শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 বেপজা ইকোনোমিক জোনের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, খাইশি লিনজেরিতে স্থানীয় শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করার খবরের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৩ হাজার ৮০০ শ্রমিকের মধ্যে ৩ হাজার ১০০ জনই মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড এলাকার স্থানীয় শ্রমিক। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ওই কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

 বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বেপজা কর্তৃপক্ষ ও কোম্পানি ব্যবস্থাপনা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মধ্যে অমিল থাকায় বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক মহলে এখনও নানা আলোচনা ও উদ্বেগ কাজ করছে।

Advertisement

Link copied!