পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে আপোষের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ গ্রহণের পর সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) এক সদস্যের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় দেবীডুবা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য উমাপদ রায় পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি মামলায় উল্লেখিত ১নং আসামির ছোট ভাই।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা এলাকায় বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় পাপড়ী রানী (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং ট্রাকটিতে অগ্নিসংযোগ করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার সময় জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কনস্টেবল ফরিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারধর করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার পরদিন মামলার ভয় দেখিয়ে সমঝোতার শর্তে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে বিষয়টি আপোষে নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হয়। সেই প্রেক্ষিতে রাতে দেবীগঞ্জের দেবদারু তলায় ইউপি চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায়সহ উপস্থিতদের সামনে ৩৭ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। বাকি টাকা পাঁচ দিনের মধ্যে দেওয়ার কথা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা গ্রহণের পরদিনই ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ইউপি সদস্য উমাপদ রায় বলেন, “আমাদের স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল মামলা হবে না। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরদিনই মামলা হওয়ায় আমরা হতবাক।”
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় বলেন, “মোবাইল ও মানিব্যাগ হারানো এবং চিকিৎসা ব্যয়ের কথা বলে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরে মামলা হওয়ায় বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে ডিএসবি সদস্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, “মামলা করেছি বলেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইও-১ মো. মোক্তারুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর ওই ডিএসবি সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
আপনার মতামত লিখুন :