কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় কলেজ ছাত্র নিহত

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংস হামলার শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আল মুহতাসিম সায়িব (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্র। হামলার ১০ দিন পর সোমবার (৮ জুন) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সায়িব শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং পৌর শহরের দমদমা কালিগঞ্জ মহল্লার বাসিন্দা মালেক মিয়ার একমাত্র সন্তান।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে তাতালপুর বিএম কলেজ রোড এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘবদ্ধ একদল কিশোর গ্যাং সদস্য সায়িবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তার জীবনাবসান ঘটে।

ছেলের মৃত্যুর খবরে শোকাহত বাবা মালেক মিয়া বলেন, “আমার একমাত্র সন্তানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কোনো বাবা-মায়ের যেন আর এভাবে সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়।”

সায়িবের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, সহপাঠী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, ঘটনার পরপরই ১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া তৎপরতা দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রকাশ্যে হামলা, মারধর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা বাড়লেও অপরাধীদের অনেকেই আইনের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে। আল মুহতাসিম সায়িবের মৃত্যু সেই সংকটকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে, যা এখন শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Link copied!