মা ও স্কুলছাত্রী কন্যাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এক বাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় মা ও তার স্কুলপড়ুয়া কন্যাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, ডাকাতির একপর্যায়ে বাড়িতে থাকা এক নারী ও তার স্কুলছাত্রী কন্যাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে মাতামুহুরি তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ভুক্তভোগী শিশুর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার ভাগ্নির অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৬ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মাতামুহুরি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদ ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে থেকে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Link copied!