ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও, বিশ্বকাপ ঘিরে এ দেশের সমর্থকদের উন্মাদনা বরাবরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের লাখো ফুটবলপ্রেমীর অকুণ্ঠ সমর্থনে মুগ্ধ হয়েছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টাইন ফুটবল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবেই বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছিল।
আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আবারও জমে উঠতে শুরু করেছে ফুটবল উন্মাদনা। তবে এবার বাংলাদেশি সমর্থকদের দৃষ্টি আকর্ষণে এগিয়ে এসেছে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ফেরার প্রেক্ষাপটে দেশটি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের সমর্থন কামনা করেছে।
ঢাকায় অবস্থিত রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যতিক্রমী পোস্ট প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক মিলের কথা তুলে ধরে বিশ্বকাপে নরওয়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম দিকেই স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর অন্যতম ছিল নরওয়ে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মধ্যস্থতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও ইতিহাসের ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে এই সম্পর্ক।
পোস্টে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ও নরওয়ে—দুটি দেশই নদী ও সমুদ্রঘেরা উপকূলীয় ভূখণ্ডের অধিকারী। মাছের প্রতি ভালোবাসা, ন্যায্যতা ও ফেয়ার প্লের প্রতি আস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার—এসব ক্ষেত্রেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য মিল। ভৌগোলিক আয়তনে বাংলাদেশ তুলনামূলক ছোট হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে নরওয়ে একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র; তবু বিশ্বমঞ্চে উভয় দেশের স্বপ্ন অনেক বড়।
বাংলাদেশি সমর্থকদের মন জয়ের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা আর্লিং ব্রাউট হালান্ডকে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ফরোয়ার্ডদের একজন এই ফুটবলার নরওয়ের জার্সিতেই খেলছেন।
দূতাবাসের মতে, যেহেতু বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না, তাই ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা নরওয়ে হতে পারে সমর্থনের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিকল্প। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশিদের ‘আন্ডারডগ’ দলটির পাশে দাঁড়িয়ে বড় স্বপ্নের অংশ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে।
দূতাবাসের এই আন্তরিক বার্তা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যগত সমর্থনের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের একটি অংশ এবার নরওয়ের পক্ষেও গলা মেলায় কি না।
আপনার মতামত লিখুন :