বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতায় অসন্তোষ প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রকল্পের মেয়াদ কেন বারবার বাড়াতে হচ্ছে, এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়সম্বলিত ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, কার কারণে প্রকল্পটির মেয়াদ বারবার বাড়াতে হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার নির্দেশ দেন।

প্রকল্প ব্যয়ের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় কাঠামো পর্যালোচনা করে অনেক ক্ষেত্রে খরচকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন এবং ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এলজিইডি ও পিডব্লিউডিসহ বিভিন্ন সংস্থার পৃথক রেট সিডিউল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত একটি অভিন্ন রেট সিডিউল প্রণয়নের তাগিদ দেন।

সভায় সড়কের পাশে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্মরণ করেন, একসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে প্রচুর গাছ ছিল, যা সড়কের সৌন্দর্য বাড়াত। বর্তমানে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কেও গাছের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সড়কের পাশে ইউক্যালিপটাস ও ইপিল-ইপিল গাছ না লাগানোর নির্দেশনা দেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে কক্সবাজারের ঈদমনি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন। এ প্রকল্পের আওতায় আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) সড়ককে আধুনিক মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করা হবে।

এ ছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’, এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের ৩৩টি জেলার সার্কিট হাউস এবং ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট স্থাপন প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে অনুমোদন পেয়েছে ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ঢাকা সিএমএইচে ক্যানসার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।

সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন, ডাকসেবার সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় এবং খুলনায় পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!