হাওর মানেই শুধু জলরাশি নয়, এটি প্রকৃতির এক বিশাল প্রাণভাণ্ডার। আর সেই প্রাণভাণ্ডার রক্ষায় যখন আইন ও প্রশাসন একসঙ্গে মাঠে নামে, তখন উন্মুক্ত জলাশয়ে অবাধ মাছ নিধনের বিরুদ্ধে উচ্চারিত হয় এক দৃঢ় বার্তা।
মাসব্যাপী মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকরণের ১২তম দিনে মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরে পরিচালিত হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরুখ আলম শান্তনুর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে মৎস্য সংরক্ষণ আইনের বাস্তবায়নে দেখা গেছে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান।
হাওরের নিস্তব্ধ জলে যখন মাছের প্রজননকাল চলমান, তখন কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি চাঁই ব্যবহার করে জীববৈচিত্র্যের ওপর আঘাত হানছিল। অভিযানে এমন দুই ব্যক্তিকে আটক করে মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধিত) আইন-২০২৬ অনুযায়ী মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ সময় প্রায় ২ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২০টি চায়না দুয়ারি চাঁই জব্দ করে ধ্বংস করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। কিন্তু প্রকৃতির হিসাবের খাতায় এর মূল্য আরও অনেক বেশি কারণ এসব অবৈধ উপকরণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে রক্ষা পেয়েছে অসংখ্য মাছের জীবন, টিকে থাকার সুযোগ পেয়েছে হাওরের ভবিষ্যৎ।
অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান। সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সালমা বেগম এবং আনসার সদস্যরা।
হাওরের জল যেন শুধু আজকের নয়, আগামী প্রজন্মেরও সম্পদ এই উপলব্ধি থেকেই প্রশাসনের এমন অভিযান। প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আপনার মতামত লিখুন :