নিয়ামতপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির নাড়ি ছিঁড়ে গেছে, মৃত্যুর সাথে লড়ছে

আব্দুল্লাহ আল মামুন , নিয়ামতপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৮ জুলাই, ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম

নিয়ামতপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির নাড়ি ছিঁড়ে গেছে, মৃত্যুর সাথে লড়ছে

নওগাঁর নিয়ামতপুরে এক ভুয়া ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতি নারীর পেটের নাড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই প্রসূতি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা ডাক্তারের কাছে কোনো সমাধান না পেয়ে প্রসূতির ভাই মোঃ সাগর আলী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রসূতি উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের নাজমুলের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন। দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মর্জিনা খাতুন শারীরিকভাবে অসুস্থ্য হলে গত ৩০ জুন মঙ্গলবার উপজেলার টিএলবি বাজারে অবস্থিত মেসার্স জেসমিন ফার্মেসীতে আসেন। মেসার্স জেসমিন ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী, গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার, উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মৃত রহমতুল্লাহর ছেলে মোঃ আলাউদ্দিনের নিকট আসেন। তিনি প্রসূতিকে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করতে বলেন।

প্রসূতির স্বামী আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করে পুনরায় ওই ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার জানান, মর্জিনা খাতুন দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। প্রসূতি ও তার স্বামী আর্থিকভাবে সংকটে থাকায় বাচ্চা না নেওয়ার কথা ডাক্তারকে বললে, ডাক্তার প্রসূতিকে কোনো প্রকার প্রতিকারের কথা না বলে নিজ হাতে ৩টি ওষুধ খাইয়ে দেন এবং আরও ৪টি ওষুধ দেন বাড়িতে গিয়ে সকালে খাওয়ার জন্য। কিন্তু প্রসূতি বাড়িতে আসার পর গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। সাথে সাথে প্রসূতির স্বামী তাকে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, ভুল চিকিৎসার কারণে প্রসূতির নাড়ি ছিঁড়ে গেছে। অপারেশন করতে হবে। বর্তমানে প্রসূতি মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন।

ভুল চিকিৎসার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রসূতির আত্মীয়স্বজন ও স্বামী হাতুড়ে ডাক্তার আলাউদ্দিনের নিকট আসলে তিনি রাগারাগি করেন এবং প্রসূতির মৃত্যু হলে তার কিছু করার নেই বলে অভিযোগ করেন প্রসূতির স্বামী।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডাঃ আলাউদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রসূতি আমার কাছে এসেছিল। কিন্তু আমি কোনো চিকিৎসা না করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে বলি।

নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ মাহবুবুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!