মান্দায় কাঁচা সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ: সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের

‎ ‎মোঃ রায়হান আলী , মান্দা ‎(নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

মান্দায় কাঁচা সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ: সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের

নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মিঠাপুর বাজার থেকে বটতলা বাজার পর্যন্ত গ্রামীণ সড়কটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কটিতে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদাময় ডোবায় রূপ নেয়, আবার শুষ্ক মৌসুমে ওড়ে ধুলার ঝড়। এই বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ পথচারীদের।

সড়কটির বেহাল অবস্থার সবচেয়ে বড় শিকার স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। ভাঙাচোরা ও কাদা-পানিতে একাকার রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই রিকশা বা ভ্যান উল্টে বই-খাতা নষ্ট হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। ভোগান্তি এড়াতে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই দুর্ভোগ আরও প্রকট।

মান্দা একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়ায় কৃষকদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য হাটে-বাজারে নেওয়ার একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। স্থানীয়রা জানান, রাস্তার দুরবস্থার কারণে পণ্যবাহী যানবাহন এই এলাকায় আসতে চায় না। দু-একটি গাড়ি রাজি হলেও গুনতে হয় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া। সময়মতো পণ্য বাজারে নিতে না পারায় এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সড়কটির সবচেয়ে করুণ দিক হলো জরুরি স্বাস্থ্যসেবা। রাস্তা এতটাই খানাখন্দে ভরা যে, কোনো জরুরি মুহূর্তে গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। প্রসূতি মা কিংবা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য খাটিয়া বা ভ্যানে করে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়। ভাঙা রাস্তায় ঝাঁকুনিতে অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে অতীতে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সড়কটি এখন ছোট-বড় দুর্ঘটনার নিত্যদিনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। ইজিবাইক, ভ্যান বা মোটরসাইকেল চালকেরা প্রতিনিয়ত এখানে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বারবার জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম গোলাম আযম বলেন, রাস্তাটির অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। আমি ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বিষয়টি জানিয়েছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মান্দা শাখার প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জানান, ইতিমধ্যে বটতলা থেকে ফকিন্নি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ চলমান রয়েছে। বটতলা থেকে মিঠাপুর পর্যন্ত রাস্তাটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি তারা অবগত আছেন এবং পর্যায়ক্রমে এটিও পাকাকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!