বুধবার, ১২ Jun ২০২৪, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন

সুজানগরে পানি প্রকল্পে ‘পুকুরচুরি’, তদন্তে স্থানীয় সরকার বিভাগ

সুজানগরে পানি প্রকল্পে ‘পুকুরচুরি’, তদন্তে স্থানীয় সরকার বিভাগ

সোহেল রানা শুভ

পাবনার সুজানগর পৌরসভার ২০১১-১২ অর্থবছরে আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্পে কাজ শেষ না করেই সরকারের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী বর্তমানে খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। গত রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি সুজানগর পৌরসভায় এ তদন্ত করেন।

গত ১৯ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ পাস-১ শাখার উপসচিব পঙ্কজ ঘোষ স্বাক্ষরিত পত্রে এ ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ তদন্ত কমিটি সুজানগরে সরেজমিন তদন্ত করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এ প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক লোপাটের সত্যতা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।সরকার ২০১১-১২ অর্থবছরে সুজানগর পৌরসভায় আসেনিকমুক্ত সুপেয় পানি ও নিষ্কাশন ব্যবস্থায় পাঁচ কোটি ৬৭ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। এ প্রকল্পে ২০০ মিলিমিটার ব্যাসের এক দশমিক ১০ কিলোমিটার, ১৫০ মিলিমিটার ব্যাসের ৪ দশমিক ৪২ কিলোমিটার, ১০০ মিলিমিটার ব্যাসের ২৩ দশমিক ৯৮ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন, পাঁচটি উৎপাদক নলকূপ, পাঁচটি পাম্প ঘর, পাঁচটি পাম্প ও মোটর ক্রয়, সারফেস ড্রেন পাঁচ কিলোমিটার, ডাস্টবিন ১২টি, পাবলিক টয়লেট চারটি, ৩০টি তারা নলকূপ স্থাপন, পাঁচটি অটো ভোল্টেজ রেগুলেটর ক্রয়, দু’টি কম্পিউটার ও এক হাজার ৪২৫টি বাড়িতে পানির মিটার সংযোগের সিদ্ধান্ত হয়।


 

পাবনার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী বর্তমানে খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামানুর রহমান এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হন। পিডি নিজেই টেন্ডার আহ্বানকারী ও বিল পরিশোধকারী হওয়ায় তিনি তৎকালীন সুজানগর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী ও পছন্দের পাবনার ঠিকাদারকে দিয়ে যেনতেনভাবে পাঁচ কোটি ৬৭ লাখ টাকা খরচ দেখান। নিম্নমানের পাইপ দিয়ে লাইন বসানোয় পানি ছাড়ার সাথে সাথে তা ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় নির্মাণের পর থেকে পানি সরবারাহ বন্ধ রয়েছে। ডিপ টিউবওয়েল বসানোর পরপরই তাও অকেজো হয়ে আছে। এমনকি নির্মাণের পর থেকে দু’টি পাম্প ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও বিদ্যুতের মাধ্যমে পাম্প ও মোটর সচল দেখিয়ে এবং প্রকল্পের অন্যান্য কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১৫ সালের জুন মাসের ২৯ তারিখের মধ্যেই পাঁচ কোটি ৬৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তদন্তকালে পাবনা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী বর্তমানে জনস্বাস্থ্য খুলনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামানুর রহমান, সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন, পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা, সাবেক পৌর মেয়র আবদুল ওহাব, তোফাজ্জল হোসেন তোফা, পাবনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম নবী, সুজানগর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী মামুনর রশীদ উপস্থিত ছিলেন। নেত্রকোনা দূর্গাপুর থানায় জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমান বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন ভুক্তভোগী হারুন-অর-রশিদ এছাড়া ঢাকা দেশের বিভিন্ন জেলায় জিডি করেন ভুক্তভোগীরা।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2024 Protidiner Kagoj |