শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন

মাছ ধরা নিয়ে দু’গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ : আহত ১০

মাছ ধরা নিয়ে দু’গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ : আহত ১০

মোঃ নাঈমুজ্জামান নাঈম কিশোরগঞ্জ :
নদী থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ও ভৈরব উপজেলার দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের দশজন আহত হয়েছে। কুলিয়ারচর উপজেলার পূর্ব লালপুর ও ভৈরব উপজেলার গজারিয়া গ্রামের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। আহত দশজনের মধ্যে সাতজন পূর্ব লালপুর এবং তিনজন গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা। লালপুর গ্রামের আহত সজিব মিয়া ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ইসলাম উদ্দিন, মন্টু মিয়া, শাহ কামাল, সোহেল রানা ও আমির হামজা কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। গজারিয়া গ্রামের সাকু মিয়া ও দ্বীন ইসলামকে ভর্তি করা হয় স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। এলাকাবাসী জানায়, ভৈরব ও কুলিয়ারচর লাগোয়া উপজেলা। কুলিয়ারচরের পাশ ঘেষে কালি নদী বয়ে গেছে।

নদীটির একপাশে গজারিয়া এবং অপর পাশে পূর্ব লালপুর গ্রাম। দুই গ্রামের মানুষ নদীতে মাছ ধরে এবং কৃষি কাজের জন্য এই নদীর পানি সেচ হিসেবে ব্যবহার করে। লালপুর অংশে নদীর পাড় ঘেষে অনেকে ধান চাষ করেছেন। রবিবার বেলা ১১ টার দিকে গজারিয়া গ্রামের লিটন, বাদল, স্বপন, ইউসুফ ও আলি হায়দার ধান ক্ষেতে ও তার পাশে দিয়ে মাছ ধরছিলেন। লালপুর এলাকার মন্টু মিয়া, ইসলাম উদ্দিন ও লিটন না ব্যক্তিরা তখন ধান ক্ষেতের পরিচর্যা করছিলেন। মাছ ধরার কারণে ধান চারার ক্ষতি হচ্ছে জানিয়ে মন্টু মিয়া ও তার চাচা ইসলাম উদ্দিন এই স্থান থেকে মাছ না ধরতে লিটনসহ সবাইকে বলেন।তাদের বারণ না শুনে লিটনসহ সকলে তখনও মাছ ধরছিলেন। এই নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে এক পর্যায়ে সংঘর্ষের রুপ পায়। একই ইস্যুতে বিকেল তিনটার দিকে উভয় পক্ষের অন্তত দুই হাজার মানুষ টেঁটা, দা, বল্লম নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যভাগে পতিত জমিতে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

খবর পেয়ে পূর্ব লালপুর গ্রামে গিয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ও গজারিয়া গ্রামে যায় ভৈরব থানা পুলিশ । পুলিশ বিকেল পাঁচটার দিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আহত মন্টু মিয়া বলেন, গজারিয়া গ্রামের মানুষের মাছ ধরার কারণে আমাদের ব্যাপক ফসলহানি হয়। আজও একই বিষয় হচ্ছিল। বারণ করায় গজারিয়া গ্রামের লোকজন আমাকে মারধর করে মাথায় আঘাত করে আহত করে। গজারিয়া গ্রামের সালা উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান, কুলিয়ারচরবাসী কালিনদীটি তাঁদের নিজস্ব সম্পদ মনে করে। এই নদী থেকে মাছ ধরলে কিংবা সেচ কাজে পানি ব্যবহার করলে রাগ হয়।

বাধা দেয়। বাধা না মানলে হামলা চালায়। সংঘর্ষ থামাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন গজারিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কাইসার আহমেদ ভ‚ইয়া। তিনি বলেন, মূলত সমস্যা মাছ ধরা নিয়ে। তবে পুলিশ ও আমাদের চেষ্টায় শেষে বড় ক্ষয় ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কুলিয়ারচর থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান,খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হই এবং নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে পূর্ব লালপুর গ্রামে পুলিশ রাখা আছে। গজারিয়া গ্রামে অবস্থান করছেন ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের জানালেন, পুরো পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2024 Protidiner Kagoj |