শনিবার, ১৫ Jun ২০২৪, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন

ফুলপুর পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ভেঙে জনদুর্ভোগ, তিন বছরেও চোখে পড়ছে না কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন  

ফুলপুর পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ভেঙে জনদুর্ভোগ, তিন বছরেও চোখে পড়ছে না কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন  

মো. আব্দুল মান্নান, স্টাফ রিপোর্টার : ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ভেঙে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সচল নেই অধিকাংশ লাইট। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও পায়নি পূর্ণতা। আগের করা ড্রেনগুলো বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে যাচ্ছে। এগুলো নেই সংস্কারের কোন উদ্যোগ। ঢাকা-হালুয়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে পৌরসভার ইন্দিরাপাড় হয়ে সঞ্চুর যাওয়ার পথে পাকা সড়কটি  মাঝখানে ও এর দু’পাশের পাড় ভেঙে গেছে। মাল্লার খাল ব্রিজের পাকা সড়কের দু’পাশ ভেঙে সংকোচিত হয়ে পড়েছে সড়কটি।
এদিক দিয়ে ছোট বড় বহু গাড়ি চলাচল করে থাকে। গাড়ি ক্রস করার সময় দুর্ঘটনা ঘটারও সম্ভাবনা রয়েছে। চরপাড়া, ফুলপুর সরকারি কলেজ রোড, বালিয়া মোড়, আমুয়াকান্দা সড়ক, সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সামনে দিয়ে যাওয়া গ্রীণ রোড,  পৌর ভবনের সামনের সড়ক, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনের সড়ক, মফিজের বাড়ির সড়ক ও ছনকান্দা বাজার থেকে সাবেক এমপি হায়াতোর রহমান খান বেলালের বাড়ির সামনে দিয়ে সাহাপাড়া হয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে যাওয়ার সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। এই সড়কটি অল্পের জন্যে ঢাকা-হালুয়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কে গিয়ে যুক্ত হতে পারেনি। আনুমানিক আধা কিলোমিটার সড়ক পাকা না করার কারণে ওই এলাকার বাসিন্দাদের গুণতে হয় দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া। সময়ক্ষেপণ তো হচ্ছেই।  সাবেক এমপি বেলাল খানের বাড়ির সামনের সড়ক দেখে সচরাচর কেউ বুঝতে পারবেন না যে, এটা পাকা সড়ক ছিল। সড়কটি ভেঙে এতই খারাপ হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই সড়কের প্রায় সবটুকু থেকে আস্তরণ ও পিচ ওঠে গেছে। এমনকি কোথাও কোথাও সড়কের ইট সুরকিগুলো পর্যন্ত নেই। মনে হয় এটি একটি কাঁচা সড়ক।
মাঝে মাঝে বড় বড় গর্ত ও খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে বর্ষাকালে পানি জমে থাকে। রিকশার চাকা পড়ে মোচড় খেয়ে ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হয় পথচারীরা। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে ওই সড়ক থেকে ধুলাবালু উড়ে বাড়িঘর ও আশপাশের দোকান পাটে গিয়ে পড়ে পরিবেশ দূষিত হয়। খবর নিয়ে জানা যায়, পৌরসভার ৪০টি অলিগলিতে বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৮১১টি লাইট বসানো হয়েছে। তবে এসব লাইটের অধিকাংশই  সচল নয়। নেই সব সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাস্টবিন। ভাষা সৈনিক এম শামসুল হক চত্বরসহ পৌরসভার যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখা হয়। এসব নিয়মিত পরিষ্কার করেন না পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পৌরবাসী। ১নং ক্যাটাগরির এ পৌরসভাকে একটি উন্নত ও মডেল পৌরসভায় রূপান্তরিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২১ সনের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন মিঃ শশধর সেন। এরপর এক এক করে প্রায় সোয়া ৩ বছর অতিক্রান্ত হলেও কাঙ্ক্ষিত কোন উন্নয়ন বা মডেল পৌরসভার কোন রূপরেখা চোখে পড়ছে না পৌরবাসীর।
সময়মত পৌরকর পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা ও সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন নাগরিকরা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফুলপুর পৌরসভার মেয়র মিঃ শশধর সেন বলেন, বরাদ্দের অভাবে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা বরাদ্দ পাচ্ছি না। যতটুকু পাচ্ছি তা তো করাই হচ্ছে। পুরাতন ডাকবাংলায় একটি সড়ক করা হয়েছে। সাবেক এমপি হায়াতোর রহমান খান বেলালের বাড়ির সামনের সড়কটির টেন্ডার হয়েছে। শীঘ্রই এর কাজ ধরা হবে। বরাদ্দ পেলে অন্যান্য কাজও পর্যায়ক্রমে শুরু করা হবে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2024 Protidiner Kagoj |