বুধবার, ১২ Jun ২০২৪, ০৯:১২ অপরাহ্ন

কোটি টাকার আমানতকারী বেড়েছে ব্যাংকে

কোটি টাকার আমানতকারী বেড়েছে ব্যাংকে

দেশজুড়ে আর্থিক সংকটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগণ এক প্রকার হতাশা-অসহায়ত্বে দিনযাপন করছেন, কিন্তু বিত্তশালীদের ক্ষেত্রে ঠিক এর উল্টো চিত্র। দেশজুড়ে এমন পরিস্থিতিতেও আয় বেড়েছে বিত্তশালীদের। কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন গ্রাহকের সংখ্যা এক লাখ ৮ হাজার ৪৫৭টি। যা গত তিন মাস আগে ছিল এক লাখ ৩ হাজার ৫৯৭টি। সেই হিসেবে দেশে তিন মাসের ব্যবধানে এক কোটির আমানতের সংখ্যা বেড়েছে চার হাজার ৮৬০টি।

এদিকে আরেক হিসাবে দেখা যায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল এক লাখ এক হাজার ৯৭৬টি। তবে একই বছরের জুন মাসে এই সংখ্যা আরও কম ছিল। ছয় মাস ব্যবধানে দুই হাজার ৫৮টি বেড়ে যায়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২ সালের জুনভিত্তিক হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ৯৫ লাখ ১৪ হাজার ৫১৩টিতে দাঁড়িয়েছে। এসব হিসাবে মোট ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা জমা ছিল। এ ছাড়া চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৯৩টিতে। তাদের হিসাবে মোট ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা জমা ছিল। এদিকে গেল বছরের জুন পর্যন্ত মোট আমানতকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ২৬৬টি ছিল। ওই সময় তাদের হিসাবে ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা জমা ছিল।

সার্বিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোটি টাকার আমানত মানে কোটিপতি না। কারণ, এ তালিকায় একাধিক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেন, এজন্য কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। এর ফলে একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাব রয়েছে। তাছাড়া এসব হিসাবের তালিকায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা রয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ জন, ১৯৭৫ সালে তা বেড়ে ৪৭ জনে দাঁড়ায়। এরপর ১৯৮০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি। সর্বশেষ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এ সংখ্যা এক লাখ এক হাজার ৯৭৬টিতে পৌঁছায়।

২০২২ সালের জুন পর্যন্ত দেশে এক কোটি এক টাকা থেকে পাঁচ কোটি টাকার আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে ৮৫ হাজার ৮৪১টি দাঁড়িয়েছে। পাঁচ কোটি থেকে ১০ কোটির মধ্যে রয়েছে ১১ হাজার ৮৬৫টি হিসাব, এ ছাড়া ১০ কোটি এক টাকা থেকে ১৫ কোটির টাকার হিসাব রয়েছে তিন হাজার ৭৬৩টি, ১৫ কোটি এক টাকা থেকে ২০ কোটির মধ্যে এক হাজার ৭১৯টি।

এ ছাড়া ৩০ কোটি এক টাকা থেকে ৩৫ কোটি টাকার ৫০২টি এবং ৩৫ কোটি এক টাকা থেকে ৪০ কোটির ৩০৭টি, ৪০ কোটি এক টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকার ৬২১টি হিসাব রয়েছে। ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানতদারীর সংখ্যা এক হাজার ৮০৫টিতে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র : আর টিভি অনলাইন

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2024 Protidiner Kagoj |