শনিবার, ১৫ Jun ২০২৪, ০৯:০৪ অপরাহ্ন

জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির যেসব যুক্তি দেখাল সরকার

জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির যেসব যুক্তি দেখাল সরকার

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে জনমণে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। এদিকে হঠাৎ দাম বাড়ানোর কারণ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। আজ শনিবার (৬ আগস্ট) সকালে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কারণগুলো তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সমন্বয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান কমানোসহ পাচার হওয়ার আশঙ্কা থেকে শুক্রবার রাতে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসে। ডিজেল লিটারে ৩৪ টাকা, অকটেন ৪৬ টাকা এবং পেট্রলে ৪৪ টাকা বাড়ানো হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় গতকাল রাত ১২টা থেকেই। দাম বাড়ার পর প্রতি লিটার ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা ও পেট্রল ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা তেলের দাম ছিল প্রতি লিটার ডিজেল ৮০ টাকা, কেরোসিন ৮০ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা ও পেট্রল ৮৬ টাকা।

দাম বাড়ার ব্যাখ্যায় জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এরআগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে। তখন ডিজেল ও কেরোসিন লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৮০ টাকা। তার আগে এই দুই জ্বালানি তেলের দাম ছিল লিটারে ৬৫ টাকা। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা থাকলেও অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ায়নি সরকার। এরপর ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরুতে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্বাবাজারে প্রতি ব্যারেল অকটেন ৮৪ দশমিক ৮৪ ও ডিজেল ৭৪ দশমিক শূন্য ৪ মার্কিন ডলারে নেমে এলে ডিজেল ও অকটেন প্রতি লিটার যথাক্রমে ৮০ ও ৮৯ টাকায় বিক্রি সম্ভব হতো, (আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি হওয়ায় এই দামে বিক্রি) যা এখন প্রায় অসম্ভব। গত জুলাইয়ে ডিজেল ও অকটেনে বিপিসি প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এর আগের দুই মাসে লোকসানের পরিমাণ ছিল শতাধিক কোটি টাকা। এ বছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিপিসি ৮ হাজার ১৪ কোটি টাকার ওপরে লোকসান দিয়েছে। এখন প্রতি লিটার ডিজেল ১১৪ টাকায় বিক্রি হলেও বিপিসিকে ৮ দশমিক ১৩ টাকা করে লোকসান গুনতে হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিবেশি দেশ ভারতের চেয়ে আমাদের দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য তুলনামূলক বেশি। গত মাসের তথ্য অনুযায়ী ভারতের কলকাতায় ডিজেল প্রতি লিটার ৯২ দশমিক ৭৬ রুপিতে (১১৮.০৯ টাকা) বিক্রি হয়। ওই সময়ের হিসাবে কলকাতার প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩৪ দশমিক শূন্য ৯ টাকা বেশি ছিল। পেট্রলের দাম বেশি ছিল প্রতি লিটার প্রায় ৪৪ দশমিক ৪২ টাকা। এ পার্থক্যের কারণে জ্বালানি পণ্যের পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মূল্য সমন্বয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি পণ্যের মূল্যের পার্থক্যজনিত পাচার রোধ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2024 Protidiner Kagoj |