শনিবার, ১৫ Jun ২০২৪, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

আকবর আলি খানের বর্ণাঢ্য জীবন

আকবর আলি খানের বর্ণাঢ্য জীবন

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খান না ফেরার দেশে চলে গেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশের প্রশাসনের ইতিহাসে অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন আকবর আলি খান। ১৯৪৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর লাভ করেন সাবেক এই সচিব। এর পর কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ এবং পিএইচডি করে দেশে ফিরে আসেন তিনি। ১৯৬৭-৬৮ সালে লাহোরের সিভিল সার্ভিস একডেমিতে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু হয় তার। ১৯৭০ সালে হবিগঞ্জ মহকুমার এসডিও হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য তাকে পাকিস্তান সরকার ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। তবে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়া দিনে (১৬ ডিসেম্বর) ঢাকায় ফিরে এসে সচিবালয়ের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন তিনি।

১৯৯৩ সালে স্বল্প সময়ের জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে যুক্ত ছিলেন আকবর আলি। পরে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়াম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৬ সালেই অর্থ সচিবের পদের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে।

কর্মজীবনে ২০০১ সালে আকবর আলি বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছিলেন। এর পর ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

২০০৬ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। অবশ্য পরে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে না এমন আশঙ্কায় তিনজন উপদেষ্টার সঙ্গে একযোগে পদত্যাগ করেন আকবর আলি খান। তিনি রেগুলেটরি রিফর্মস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশে ইসলামের বিকাশ সংক্রান্ত ‘বাংলাদেশের ইতিহাস’তথা ‘হিস্টোরি অব বাংলাদেশ’ বইটি আকবর আলি খানকে দিয়েছে মুসলিম সমাজে বিশেষ অবস্থান। এছাড়াও তার বিখ্যাত গ্রন্থের তালিকায় আছে পরার্থপরতার অর্থনীতি, আজব ও জবর আজব অর্থনীতি, অবাক বাংলাদেশ : বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি, বাংলায় ইসলাম প্রচারে সাফল্য : একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ, দুর্ভাবনা ও ভাবনা : রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ইত্যাদি।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2024 Protidiner Kagoj |