বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
আদালতের আদেশে ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচনের ফলাফল পুনঃগণনা করতে গেলে তিনটি অডিট কার্ডের খোঁজ পাইনি নির্বাচন কমিশন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দেওয়ার ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারল না সংশ্লিষ্ট কমিটি।
সেই কমিটির প্রধান ও নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক মো. আবদুল বাতেন বলেন, “সিলগালা করা বস্তায় অডিট কার্ড প্লাস প্রিজাইডিং অফিসারে রেজাল্ট শিট, ইভিএম থেকে বের হওয়া ফলাফলের প্রিন্ট কপি থাকবে, এটাই নিয়ম। আমরা সিলগালা করা বস্তাগুলো প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রার্থীদের সামনেই খুলেছি কোর্টের আদেশ অনুসারে। তিনটা বা চারটা অডিট কার্ড মিসিং আছে। তবে ওখানে আবার প্রিজাইডিং অফিসারের যে রেজাল্ট শিট, সেটা ছিল এবং ইভিএম থেকে ফলাফলের যে প্রিন্ট কপি থাকে, ভোটের দিন যেটা বস্তার ভেতর দিয়েছিল সেটা পেয়েছি। সবাই সামনেই ওটা কাউন্ট করেছি।”
অডিট ছাড়া বিষয়টি কী স্বচ্ছ হলো, জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, স্বচ্ছতার বিষয়টি কোর্ট বলবেন। অডিট কার্ড ছাড়া আগের ফলাফলই দেখাতে পারেন, পুনর্গণনা তা তো হয়না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, “অডিট কার্ড একটা ফ্যাক্টর। কিন্তু অডিট কার্ডের বাইরেও যে নির্বাচন হয়েছিল ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, ওইদিন যেমন অডিট কার্ডে রেজাল্টটা সংরক্ষিত আছে, তেমনি ইভিএম থেকে যে প্রিন্ট কপি নিয়েছে সেটাতেও ফলাফল সংরক্ষিত আছে এবং প্রিজাইডিং অফিসারের যে কপি সেটাও সংরক্ষিত আছে। একটা অডিট কার্ড পাওয়া যায়নি, সেখানে অবশ্যই আমরা বলবো যে অডিট কার্ড পাওয়া যায়নি”।
ইটিআই মহাপরিচালক বলেন, “এটা প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ভুল করে হতে পারে। ইনটেনশনালি হতে পারে। কিন্তু বস্তাগুলো সিল গালা ছিল। আমাদের কমিটির কাজ হলো যা যা পেয়েছি তা দেবো। এরপর আইন অনুযায়ী কোর্ট সিদ্ধান্ত দেবেন। ৫৪টি কেন্দ্রে ৫৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার ছিল। একজন প্রিজাইডিং অফিসার যেমন বলেছেন- অডিট কার্ড বস্তার ভেতরে দেওয়ার জন্য আমাকে বলা হয়নি। বাকিরা তো দিয়েছেন। তখন তিনি বলতে পারেননি কিছু। এটা হয়তো ভুল হতে পারে। হয়তো অন্য কোথাও দিয়েছেন। আবার ইনটেনশনালিও হতে পারে। যে বস্তাগুলোর বাইরে সিলগালা ছিলনা, সেগুলোর ভেতরের প্যাকেটগুলো সিলগালা করা ছিল। এতে সমস্যা ছিল না। অডিট কার্ডে কেন্দ্রের টোটাল ফলাফল। আর পোলিং কার্ডে প্রতিটা বুথের ফলাফল থাকে”।
অডিট কার্ড গায়েব হওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, না। এই ধরণের কোনো ইনফরমেশন আমাদের কাছে নেই। সিলগালা করা বস্তা থেকে অডিকার্ড গায়েব হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি হয়ে থাকে সেটা আমরা তদন্ত করে দেখতে পারি। ওই বস্তা প্রিজাইডিং অফিসার দিয়েই খুলাতে হয়। এই রকম যদি কার্ড হারিয়ে থাকে অবশ্যই আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেবো। এটা মোটে স্বাভাবিক নয়, এটা অস্বাভাবিক ঘটনা।
তিনি বলেন, শতের মধ্যে, হাজারের মধ্যে দুই একটা ঘটনা ঘটলেই যে ইয়ে হয়ে যায়, তা না। একটা দুইটা ভুল হতেই পারে। আবার সবাই যে ভাল লোক তাও তো নয়। খারাপ লোক দু’এক জন। তার মানে এই নয় যে বাংলাদেশের সব লোক খারাপ। দুই পক্ষের প্রার্থী, এজেন্ট সবার সামনেই কমিটি কাজ করেছে। রিপোর্টটাতো আদালতে যাবে। আদালত নিশ্চয় তার ওপর একটা আদেশ দেবেন।