বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সারা দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করবে আজ। আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ এবং বিএনপি পদযাত্রা করবে। কর্মসূচি ঘিরে দু’দলই এদিন রাজপথে ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির প্রমাণ দিতে চায়। তৃণমূলে দুটি বড় রাজনৈতিক দলের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে দুই দলের পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়েছে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে।
বিএনপি ও সমমনা দলগুলো নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং ১০ দফার ভিত্তিতে চলমান গণআন্দোলনের যুগপৎ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রা করবে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত জোটের নৈরাজ্যমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করবে। ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন দলটিকে পাল্টা কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। এদিকে সম্ভাব্য যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও জোরদার করা হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি কিছুদিন হলো প্রকাশ্যে মাঠে আসছে, বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে। আমরা সন্ত্রাসের আশঙ্কায় শান্তি সমাবেশ করছি। যতক্ষণ বিএনপি আন্দোলন করবে আমরা শান্তি সমাবেশ করব। আমাদের দল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা কোনো কর্মসূচি দিলে কেউ বলছে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। আমরা তো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি করছি না। বিএনপির সঙ্গে আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা আছে, তা সুখকর নয়। ২০১৩, ’১৪ সালে রাজনীতিতে তারা কত নিকৃষ্টতম, নোংরা ভূমিকা পালন করেছে—সেটার প্রমাণ দেশের মানুষ পেয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিচ্ছে, তারা (আওয়ামী লীগ) পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। বিএনপি কর্মসূচি দিচ্ছে, তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি দিচ্ছে। বিএনপি কর্মসূচি দিচ্ছে, তারা নাকি শান্তি কর্মসূচি দিচ্ছে। আমরা বলতে চাই, বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে বাধা দেওয়া চলবে না। লক্ষ্য জনতা রাস্তায় নেমে প্রমাণ করেছে—গুলি করে, হত্যা করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে, গায়েবি মামলা দিয়ে গণজোয়ার বন্ধ করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘যতই পাল্টা কর্মসূচি দেন, শান্তি সমাবেশ দেন—আপনারা জনগণের কাছে হাস্যকর হিসেবে পরিচিতি হয়েছেন। দেশের মানুষ আপনাদের কর্মসূচি দেখে হাসে।’ পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন এই বিএনপি নেতা।
গত ২৮, ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি এবং ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পদযাত্রার কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। ওই দিনগুলোয়ও কর্মসূচি নিয়ে মাঠে ছিল আওয়ামী লীগ। এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ঢাকাসহ দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ডাকলে আওয়ামী লীগও পাল্টা শান্তি সমাবেশ করে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বিএনপির পদযাত্রার দিন শান্তিসমাবেশ ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানিতে সমবেদনা জানিয়ে বুধবার গভীর রাতে পদযাত্রা স্থগিত করে বিএনপি। আর বৃহস্পতিবার সকালে একই কারণ দেখিয়ে শান্তি সমাবেশ স্থগিত করে আওয়ামী লীগ।
সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির পদযাত্রা ও আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না হয়, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। পুলিশের বিভিন্ন রেঞ্জ ও একাধিক জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মনজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মসূচি পালন করবে, এটা স্বাভাবিক। তবে কর্মসূচির নামে যদি কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে, কোনো ধরনের নাশকতা বা জানমালের ক্ষতির চেষ্টা করে, তাহলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এজন্য সারা দেশেই থানাগুলোয় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।