মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন

অন্যের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোয় সাবেক স্ত্রীকে কুপিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ

অন্যের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোয় সাবেক স্ত্রীকে কুপিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠিতে সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় সাবেক স্বামী আতিকুর রহমানকে আটক করেছে। মঙ্গলবার সকাল ১০ টা দিকে জেলা শহরের সাধনার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ ও শিক্ষিকার সহকর্মীরা জানান, ওই শিক্ষিকা পুলিশের এক এএসআইয়ের স্ত্রী থাকা অবস্থায় সন্তানের আর্ট শিক্ষক আতিকুর রহমানকে প্রেম করে বিয়ে করেন। ২০২১ সালের মে মাসে আতিকুর রহমানের বিয়ে হয়। ১১ মাস সংসার শেষে ২০২২ সালের ১৫ জুন তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়।

একটি সূত্র জানায়, তাদের প্রেম চলাকালে ওই শিক্ষিকাকে আতিক ১৮ লাখ টাকা মূল্যের একটি জমি লিখে দেবেন এবং তার ভরণপোষণসহ সব খরচ বহন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু বিয়ের পর বুঝতে পারেন, সবই ছিল প্রতারণা। বরং স্ত্রীর কাছ থেকে প্রতিদিন হাত খরচ বাবদ ২০০ টাকা নিতেন। প্রতিশ্রুতি ও কাজের মিল না থাকায় তাদের সংসারে ভাঙন হয়। আতিকেরও একাধিক বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

মঙ্গলবার সকালে স্কুলে আসার পথে সাবেক স্বামী আতিক পরিকল্পিতভাবে ওই শিক্ষিকাকে পথরোধ করে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা, পেট ও বুকে আঘাত করে। এতে রক্তাক্ত ও জখম হলে স্থানীয়রা ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে, ঘটনার পর ঘটনাস্থলে থাকা ট্রাফিক পুলিশের এক টিএসআইয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করেন আতিক। পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে আতিক জানান, তার সাবেক স্ত্রী অন্য সম্পর্কে জাড়িয়ে যাওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়েই তাকে কুপিয়েছেন। এ ঘটনায় যে বিচার হয়, তিনি মেনে নেবেন।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি নাসির উদ্দিন সরকার জানান, আতিক পুলিশের হাতে আত্মসমর্পণ করার পর তাকে থানায় আনা হয়। বিকাল পর্যন্ত কেউ অভিযোগ না করায় থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। শিক্ষিকার আত্মীয়স্বজন তাকে চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় অভিযোগ দিতে দেরি হচ্ছে।

ঝালকাঠি শাহী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার বেগম বলেন, সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে আসার সময় পথরোধ করে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবি করছি।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |