মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন

১৭ বছর বয়সেই ১৭ মামলার আসামি, ট্রেনের চাকায় অব্যাহতি সব মামলায়

১৭ বছর বয়সেই ১৭ মামলার আসামি, ট্রেনের চাকায় অব্যাহতি সব মামলায়

তৌহিদ বেলাল 
চট্টগ্রাম রেলওয়ে এলাকার দুরন্ত-দুর্ধর্ষ কিশোর মামুন সতেরো বছর বয়সেই একে একে আসামি হয় ১৭ মামলার। শেষমেষ রেলের চাকাতেই সমাপ্তি ঘটলো তার অপরাধ জীবনের। অব্যাহতি পেলো সব মামলা থেকেই!
মামুনের মতো তার মা, বোন ও ভাইয়েরাও বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তারাও  একাধিক মামলার আসামি। মা নাছিমা, ভাই বশির ও ইমরান, বোন পিংকি, তানিয়া ও মৌসুমী- সকলেই বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন।
মামুনদের আদি নিবাস রাজধানী ঢাকার শ্যামপুর থানার পোস্তগোলা এলাকায়। তাদের পিতা কল্যাণ ওরফে কলোন মিয়া অনেক আগে জীবিকার তাগিদে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে চলে আসেন সপরিবারে। বসবাস শুরু করেন নগরীর কোতোয়ালি থানার পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায়। কয়েক বছর পূর্বে মারা যান কলোন মিয়া।
পিতার মৃত্যুর পর শিশু মামুন শুরু করে চুরি ও ছিনতাই। একসময় চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকার ছিনতাইকারীদের নেতা বনে যায়। সুনিপুণ কৌশলে চুরি ও ক্ষিপ্রগতির ছিনতাইয়ে মামুন ছিলো অত্যন্ত সিদ্ধহস্ত। এই কিশোর বয়সেও প্রাপ্তবয়স্ক পেশাদার অপরাধীর কাছে মামুনের পরিচয় ছিলো ‘গুরু’ হিসেবে। তার অভিনব কৌশলের চুরি-ছিনতাই রীতিমতো অবাক করে দিতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। পুলিশের খাতায় মামুনের আরেক নাম ইব্রাহিম।
সহযোগীদের বরাত দিয়ে পুলিয় জানায়, গেল মঙ্গলবার মামুন চট্টগ্রাম থেকে ‘সাগরিকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে করে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। কিন্তু ওইখানে পৌঁছার পূর্বেই ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ে মারাত্মক আহত হয় মামুন। ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাই করে সে নিজেই লাফ দেয় কিংবা ট্রেনযাত্রীরা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে তাকে। এই ঘটনায় পায়ে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত মামুনকে রেলওয়ে পুলিশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে জীবন রক্ষার্থে তার একটি পা কেটে ফেলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, মারা যায় মামুন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর কোতোয়ালি থানার পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় জানাজা শেষে পাশের কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার অতনু চক্রবর্তী শুক্রবার সকালে প্রতিদিনের কাগজ-কে বলেন- ‘চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে মামুনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা রয়েছে। ট্রেনে কাটা পড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামুন হাসপাতালে মারা গেছে’।
জানা গেছে, সতেরো বছরের কিশোর মামুনের মামলার সংখ্যাও ১৭। বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হলেও অপ্রাপ্ত বয়সের সুযোগে আইনের ফাঁকফোঁকর গলে সে ছাড়া পেয়ে যেতো সবসময়। জামিনে বেরিয়েই আবারো জড়াতো অপরাধে। সমানতালে চলতো চুরি, ছিনতাইসহ নানান অপরাধ কর্ম।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মোবারক সাঈদ প্রতিদিনের কাগজ-কে জানান, মামুনের মৃত্যুতে আইন অনুযায়ী তার নামে থাকা সবগুলো মামলা থেকে সে অব্যাহতি পাবে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |