মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

আইনি জটিলতা পেরিয়ে আড়াই মাস পর নওমুসলিম আহমাদের দাফন

আইনি জটিলতা পেরিয়ে আড়াই মাস পর নওমুসলিম আহমাদের দাফন

তৌহিদ বেলাল :

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নওমুসলিম আহমাদের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। দীর্ঘ আড়াই মাস হিমঘরে পড়ে থাকার পর সোমবার আদালত ইসলামি রীতি অনুযায়ী মরদেহটি দাফনের নির্দেশনা দেন। এর আগে আহমাদের মা সন্ধ্যা রাণী দাশ ছেলেকে হিন্দু রীতি অনুযায়ী পুড়িয়ে সৎকার করতে চাইলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় তেলবাহী ট্যাংকলরির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নওমুসলিম আহমাদ (২৯) নিহত হন। দুর্ঘটনার পর আহমাদের ধর্মপরিচয় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। নিহতের মা সন্ধ্যা রাণী দাশ ও পিতা মনোরঞ্জন দাশ তাদের সন্তান রতন দাশকে (নওমুসলিম আহমাদ) হিন্দু ধর্মের রীতি অনুযায়ী পুড়িয়ে সৎকার করার দাবিতে অনড় থাকেন। অন্যদিকে আহমাদের বন্ধুদের দাবি, হিন্দু যুবক রতন দাশ ইসলাম ধর্মে আকৃষ্ট হয়ে কালেমা পাঠ করে ইসমাল ধর্ম গ্রহণ করেছেন। আর তাতেই সৃষ্টি হয় জটিলতা। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আহমাদ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরদিন ৩০ জানুয়ারি পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১৩ মার্চের মধ্যে পটিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেন। কিন্তু ওইসময়ের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি পুলিশ। অধিকতর তদন্তের জন্য ওইদিন তারা আদালতে সময়ের আবেদন করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ২০ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করেম। কিন্তু ২০ এপ্রিল ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটি থাকায় সেদিন আদালতে আর এবিষয়ে শুনানি হয়নি। পরে সোমবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বিশ্বেশ্বর সিংহ নিহত নওমুসলিম আহমাদকে ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফনের পক্ষে রায় দেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা (আইও), পটিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিদিনের কাগজ-কে জানান, সোমবার দুপুরে আদালত নিহত নওমুসলিম আহমাদের মরদেহ ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক দাফন করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরে আহমাদের ধর্মীয় শিক্ষক আকরাম হোসেনের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম নগরীর চৈতন্য গলির ২২ মহল্লার কবরস্থানে সোমবার রাতেই তার মরদেহ দাফন করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রামের খ্যাতিমান আলেম আল্লামা মুফতি হারুন ইজহারের মাধ্যমে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন হিন্দু যুবক রতন দাশ। তার নাম দেয়া হয় ‘আহমাদ’। এরপর ১৭ নভেম্বর সিনিয়র সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এভিডেভিড করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। এরপর থেকে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও ইসলাম ধর্মের সব নিয়মকানুন মেনে চলতেন।

জানা যায়, নিহত আহমাদের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পূর্ব মায়ানি গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মনোরঞ্জন দাশ ও মায়ের নাম সন্ধ্যা রানী দাশ। আহমাদ চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন মগপুকুর পাড়ের বত্রিশ কোয়ার্টার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি ‘হ্যালো বিডি’ নামের একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৯ জানুয়ারি দুপুর দুইটার দিকে কাজ শেষে ফেরার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার মনসা বাদামতল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

 

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |