মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা : জামালপুর জেলা কারাগারের বন্দিদের জন্য লেখাপড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদেরকে তাঁত, হস্তশিল্প,পাওয়ার লুম, দর্জি, পুঁথির কাজ, ইলেকট্রিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সংগীত চর্চার ব্যবস্থা করেছে জেলা কারাগার।কারা কর্তপক্ষ জানিয়েছে, এতে বন্দিদের মাঝে পরিবর্তন আসছে। তাদের স্বাবলম্বী করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জামালপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের আলোর পথে নিয়ে আসতে বর্তমান জেলার আবু ফাতাহ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। গত দুই বছরে কারাগারে বেশকিছু পরিবর্তনও এনেছেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে ইসলামী ফাউন্ডেশন ও কারাগার থেকে পৃথকভাবে কোরআন শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে বন্দিদের। বিনোদনের জন্য সাংস্কৃতিক দল গঠন করা হয়েছে। নিয়মিত সংগীত প্রশিক্ষণসহ ও পরিবেশন করেন শিল্পীরা। একইসঙ্গে কারাভ্যন্তরে গ্রন্থাগার স্থাপন করা হয়েছে। বন্দিদের বই পড়ার সুযোগ দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলার আবু ফাতাহ জানায়, বন্দিদের নিরক্ষরমুক্ত করতে উদ্যেগ নিয়েছে জামালপুর জেলা কারাগারে। নতুন কোনও আসামি এলে তার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কেউ লেখাপড়া ও স্বাক্ষর না জানলে তাকে আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হয়। কারাগারে আসার পরদিনই শুরু হয় স্বাক্ষর শেখানো। বর্তমান একটি মামলায় যাবজ্জীবন জেল হওয়া উচ্চ শিক্ষিত একজন ব্যক্তি শিক্ষক হিসেবে এখানে কাজ করছেন। এই ব্যক্তি কারাগারে আসার পর থেকে ৫০০ জনকে স্বাক্ষরসহ লেখাপড়া শিখিয়েছেন।
জেলার আবু ফাতাহ বলেন, ‘লেখাপড়া শেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সংগীত চর্চার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অনেকেই এখন উপার্জন করে সংসার চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, কারাগারকে সংশোধনাগার করতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে মাদক ব্যবসায়, ছিনতাই, চুরিসহ নানা অপরাধ করে আসা আসামিরা বের হয়ে সৎ কর্ম করে জীবন যাপন করতে পারেন।