মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন
মনির হোসেন, জবি প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যাআলয়ের (জবি) অদূরে শ্যামবাজারের পাশেই অবস্থিত ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যবাহী লালকুঠি। একসময় ব্রিটিশ রাজা আর জ্ঞানীগুণীদের আনাগোনায় মুখরিত থাকত ফরাশগঞ্জের এই লালকুঠিটি, একসময় ঢাকার বিনোদন ও সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল এই ভবন। এখন সেগুলো একটা ইতিহাস।
এই নর্থব্রুক হলেই ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি ও পিপলস এসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। এই লালকুঠির মূল ভবনের ডান দিকে ছিল বড় একটি মঞ্চ, সেখানে অভিনয় করতেন দেশবরেণ্য শিল্পীরা। সেসব এখন সবই স্মৃতি।
কয়েকবছর আগেই লালকুঠি ভবনটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ভবনটি বহুবছর পড়েছিল তালাবন্ধ অবস্থায়। মানুষের আনাগোনা আর হৈহুল্লোড়ের অভাবে ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত ভবনে পরিনত হয়েছিল এই স্থানটি। লালকুঠির স্থবীরতায় আশপাশ গড়ে উঠেছে নানান স্থাপনা, নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট।
এইসব অবকাঠামো ভেঙে শিগগিরই পুরান ঢাকার লালকুঠির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংস্কার উদ্যোগে হারানো গৌরব ফিরে পেতে যাচ্ছে পুরান ঢাকার লালকুঠি। ঢাকা সিটি নেবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্টের (ডিসিএনইউপি) অধীনে ১৮৭২ সালে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে নির্মিত কাঠামোটি সংস্কারের জন্য সিটি কর্পোরেশন গত ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে চলছে সংস্কার কাজ।
রবিবার (১৩ আগষ্ট) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় সংস্কার কাজ চলছে পুরোদমে। সামনের পানির ফোয়ারা নতুন ভাবে সাজবে, পাশের বিল্ডিং ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে আরো কাজ চলমান আছে। লালকুঠির ভিতরে কেউ ঝালাই দিচ্ছেন, কেউ রড কাটছেন কেউ কেউ বিভিন্ন মালামাল এদিকে ওদিকে সরিয়ে নিচ্ছেন।
নর্থব্রুক হলের বাঁ দিকে ফরাশগঞ্জ ক্লাব। ডান দিকে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনারের অফিস ও কমিউনিটি সেন্টার। পেছন দিকে রয়েছে ঢাকা নদী বন্দরের লালকুঠি ঘাট। চাঁদপুরগামী লঞ্চ সেখান থেকেই ছাড়ে; কিছুক্ষণ পর পর ভেসে আসে ভেঁপুর আওয়াজ। সেখানে আরো আছে ডিঙ্গি নৌকার মাঝিদের কলরব।
প্রায় ৬০ বছর বয়সী আদিত্য নারায়ণ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা আশা করছেন লালকুঠির যে পুরনো স্থাপত্যশৈলী, তা আবার ফিরে আসবে শীগ্রই । সেখানে আবার আগের মত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে, মানুষ কোলাহল জমবে।
উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, ১৮৭৪ সালে ভারতের গভর্নর জেনারেল জর্জ ব্যারিং এর ঢাকা সফর উপলক্ষে টাউন হল হিসেবে এ ভবন নির্মাণ করা হয়, যার নামকরণ হয় তার নামেই।
১৮৭৯ সালের শেষের দিকে নর্থব্রুক হলের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়, উদ্বোধন করা হয় ১৮৮০ সালের ২৫ মে। পরে নর্থব্রুক হলের নামানুসারে সংলগ্ন সড়কের নামকরণ হয় নর্থব্রুক হল রোড। মোগল স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত চার মিনার আর লাল গম্বুজের এই ভবনের নাট্যশালায় গত শতকের ষাটের দশকেও নিয়মিত নাটক হত।
লালকুঠির পেছনের অংশটি এক সময় গণপাঠাগার হিসেবে ব্যবহার করা হত, বিভিন্ন বিদেশি প্রকাশনা সংস্থার দুর্লভ বহু বই সংরক্ষিত ছিল সেখানে, যেগুলো শিক্ষার্থীদের গবেষণা কাজ কিংবা থিসিসের জন্য কাজে লাগত। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ২০১৭ সালের নভেম্বরে ফরাশগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি ভবনের তৃতীয় তলায় পাঠাগারটি স্থানান্তর করা হয়।