মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
আক্তার মাহমুদ,ঢাকা : কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকা থেকে ইয়াবা, হেরোইন এবং আইসের মতো মাদকদ্রব্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিচ্ছে মাদক কারবারিরা। মাদক পরিবহনে তারা ব্যবহার করছে সড়ক, নৌ এবং আকাশপথ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা নিচ্ছে অভিনব পন্থা। এমনকি নিজেদের মধ্যে গঠন করছে ‘অ্যাডভান্স টিম’; যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারির তথ্য সংগ্রহ করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক ব্যবসায়ীরা ছদ্মবেশে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় আগে থেকেই থাকে অগ্রবর্তী টিম। তারা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ক্লিয়ারেন্স দিলেই মাদক নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে রওনা হয় ক্যারিয়াররা।
কখনও চা বিক্রেতার ছলে, আবার কখনও মোটরসাইকেল ট্রাভেলারের ছদ্মবেশে এমনকি নৌপথে লঞ্চে বিভিন্ন ফেরি-পণ্য বিক্রির ছলে রাজধানীতে নিয়ে আসা হচ্ছে মাদক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্নভাবে রাজধানীর খিলগাঁও ৫৫২/সি, ঢাকার বাড়ি থেকে এসব মাদক আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নারীদেরকেও। রাজধানীতে ৩৩ টি পয়েন্টের মাদকের গডফাদার মোশারফ আলম ওরফে কানা মোশারফ। যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন সময় ইয়াবা এবং আইসের চালান ধরা পড়লেও অনেক চালান থেকে অধরা হয়ে যায় মোশারফ আলম ওরফে কানা মোশারফ ।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অভিযানে মাদকসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানতে পারেন, নানা কৌশল অবলম্বন করে রাজধানীতে
মোশারফ আলম ওরফে কানা মোশারফ ইয়াবা আইস হেরোইনের মতো মাদক সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা অর্জন করেন ।
পরবর্তী সময়ে রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজার টেকনাফ এবং চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সহায়তায় রাজধানীর খিলগাঁও এলাকাসহ বিভিন্ন হোটেলে এসব মাদক মজুত করে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে ক্যারিয়ার এবং মাদক ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক সহযোগিতায় বিভিন্ন ডিলার এবং বিভিন্ন লোকজনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলেন, ‘কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা ও আইস সংগ্রহ করে মাদক কারবারীরা প্রথমে বান্দরবান হয়ে রাঙামাটি নিয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা হয়ে লোকাল বাসে করে ধাপে ধাপে ফেনী পর্যন্ত আসছে ক্যারিয়াররা।
আর এসব ক্যারিয়ারের আগে সড়কের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা দেখানোর জন্য লোকজন নিয়োগ করা থাকে তারা ক্লিয়ারেন্স দিলে পরবর্তীতে সেসব সড়ক দিয়ে যাত্রী সেজে এবং বিভিন্ন ছদ্মবেশে মাদক রাজধানীতে নিয়ে আসছে। মাদক পাচার চক্রের সদস্যরা রাজধানী খিলগাঁওসহ আশেপাশে বাসা ভাড়া নিয়ে সেসব বাসায় এনে মাদক মজুত করছে। পরে সময় সুযোগ বুঝে রংপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়,দিনাজপুর,ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন কর্মকর্তারা।
বিশেষ করে সড়ক পথে মাদক আনা-নেওয়ার জন্য বিভিন্ন গণপরিবহনগুলোকে টার্গেট করে চালক এবং হেলপারদের বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়েও নিজেদের দলে বেড়াচ্ছে মাদক কারবারীরা। মাদকের প্রতিটি চালান কক্সবাজার টেকনাফ এলাকা থেকে রাজধানীতে পৌঁছে দিলেই এক একজন পেয়ে যাচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। আর এই টাকার হাতছানিতে বিভিন্ন পরিবহনের চালক এবং হেলপাররা গাড়ির বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রেখে ইয়াবা রাজধানীতে নিয়ে আসছে।
সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অভিযানে রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকা থেকে কক্সবাজারের কলাতলীতে মেরিন ইকো রিসোর্টের মালিক কাজী জাফর সাদেক রাজুকে (৩৮) গ্রেফতার করা হয়। তার রিসোর্টে মজুত রাখা হতো ইয়াবা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এজেন্ট ও খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা মোশারফ আলম ওরফে কানা মোশারফ এর মাধ্যমে রাজধানীতে ৩৩ পয়েন্টে নিয়ে আসা মাদকের বড় চালান ।