মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন
আবুল হাসনাত মিনহাজ: ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে একটানা ভারি বর্ষণ, ডুবে গেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা।শহরের প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে এখন হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। দোকানপাট ও বাসা-বাড়িতেও ঢুকে পড়েছে পানি। প্রশস্ত সড়কগুলো যেন একেকটি স্রোতস্বিনীতে পরিণত হয়েছে। ভারি বর্ষণে নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাদুরতলা, জিইসি মোড়সহ নিচু এলাকাগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। নগরীর নিম্নাঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় পানি থইথই অবস্থা।
অনেক সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গাড়ি যত্রতত্র বিকল হয়ে পড়ে থাকে দীর্ঘ সময়। ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে। পানিতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। অচল হয়ে পড়েছে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। নগরের শোলকবহর এলাকার বাসিন্দা এহসানুল করিম বলেন,‘প্রায় ২৫ বছর ধরে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করছি। প্রতি বছরই বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা হয়।’
মুরাদপুরের বাসিন্দা সাইফুর রহমান বলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল। কয়েকটির কাজও নাকি শেষ হয়েছে। তাহলে আজকে নাগরিকদের এভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হবে কেন? হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট পরের কথা। নালাগুলোও পরিষ্কার করা হচ্ছে না। তাহলে সিটি করপোরেশন করছে কি? আবর্জনা অপসারণ না করায় সামান্য বৃষ্টিতেও এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।আসলে আমরা ভালো নেই।’ এদিকে প্রবল বর্ষণের কারণে নগরীতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে নেয়ার জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক কাজ করেছেন।জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন,‘পাহাড়ে বসবাসরতদের মাইকিং করে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রতিদিন জেলা প্রশাসনের টিম কাজ করছে। আমি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়েছি।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ২০৫ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। “রাতে যখন রেমাল উপকূল অতিক্রম করছিল তখন ভাটা ছিল। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এই তিন ঘণ্টায় ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ৯টা ২২ মিনিট থেকে জোয়ার শুরু হয়।