মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
শাহিনুর আজিজ : নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের অসহায়ত্বকে জিম্মি করে বাণিজ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে জেলসুপার ও জেলারের বিরুদ্ধে। কারাগারের অভ্যন্তর ক্যান্টিনে বাজার মূল্যের চেয়ে প্রতিটি পণ্যে দ্বিগুণেরও বেশি রাখায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে হাজতি ও কয়েদিদের মধ্যে। এ ছাড়া বাইরে থেকে বন্দিদের জন্য খাবার সরবরাহে বাণিজ্যের অভিযোগ তো রয়েছেই। জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম – দুর্নীতি এবং অবৈধ কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন হাজতি ও কয়েদিরা।
কারা ক্যান্টিনের খাবার ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে ভেতরে চলছে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ভেতরের বন্দি ও জামিনে বেরিয়ে আসা আসামিরা দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে জানান, জেলা কারাগারের ক্যান্টিনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি দামে বন্দিদের কাছে খাবার বিক্রি করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও সরকারি খাবারের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে বন্দিদের, যা খাবার উপযোগী নয়। এ কারণেই অতিরিক্ত মূল্যে কারা ক্যান্টিনের খাবার কিনে খেতে বাধ্য করা হচ্ছে বন্দিদের। শুধু তাই নয়, স্বজনদের সাথে ৭ দিন সাক্ষাৎ পরপর ১০ মিনিট করে ফোনে কথা বলার যে সরকারি নিয়ম, তা কার্যকর হচ্ছে না। কয়েদিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাক্ষাৎ করতে চাইলে প্রতি সাক্ষাতে গুণতে হয় এক থেকে দেড় হাজার টাকা। এই বকশিশ না দিলে কোনো ভাবেই মেলে না সাক্ষাতের অনুমতি।
এই সব অনিয়ম-প্রশ্রয়ের অভিযোগই উঠেছে জেলারের বিরুদ্ধে। বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, কারা ক্যান্টিনে গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হয় ১৮ শ টাকা। এরপর রান্নার খরচসহ গুনতে হয় ২২শ থেকে ২৪শ টাকা। এরকম প্রতিটি পণ্য ক্রয় করতে হয় প্রচলিত বাজার মূল্যের কয়েক গুণ দাম দিয়ে। এভাবেই বন্দিদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল অর্থ। এমনকি বন্দিরা জামিনে বেরিয়ে আসার সময় এসব ক্লিপ তাদের কাছ থেকে রেখে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাক্ষাৎ বাণিজ্য, কারা হাসপাতালের সিট বাণিজ্য, খাবার বাণিজ্য, চিকিৎসা বাণিজ্য, পিসি বাণিজ্য, কারা অভ্যন্তরে নিষিদ্ধ মালামাল প্রবেশ বাণিজ্য এবং জামিন হলে দ্রুত মুক্তি বাণিজ্যের নামেও বিপুল অঙ্কের অর্থ বাণিজ্য হচ্ছে। বন্দিরা এসবের কোনো প্রতিবাদ করলেই তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ ও আটক রাখা হয় সেলে।
এসব কিছুর কোনোটাই অজানা নেই জেলার মো. নাসিরের বরং সব অনিয়মে প্রশ্রয় আছে তার। যে কারণে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হয় না। কারাগারের এসব অনিয়ম-দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে চলতে এখন তা পরিণত হয়েছে অলিখিত নিয়মে। এ ব্যাপারে জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ মোকাম্মেল হোসেন বলেন, এরকম অভিযোগ আমিও শুনেছি। আমি আমার মতো করে সতর্ক করেছি। বন্দিরাও ভয়ে হয়তো মুখ খুলছে না। লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। এর আগেও আমি এসব বিষয় মৌখিক ভাবে শুনতে পেয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি।