মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

মধ্যরাতে উত্তাল চবি, মূল ফটক বন্ধ করে উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর

মধ্যরাতে উত্তাল চবি, মূল ফটক বন্ধ করে উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর

মোস্তফা কামাল , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে শাটল ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে প্রায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে রাস্তায় আগুন দেয়। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে ভাঙচুর ও আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন। জিরো পয়েন্টে অবস্থিত পুলিশ বক্সে ভাঙচুর চালান শিক্ষার্থীরা।
ভাঙচুর চালানো হয়েছে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতেও। প্রশাসনের কাছে শাটল ট্রেনের বগি বাড়ানোর দাবিও জানান তাঁরা।

সরজমিনে দেখা গেছে, শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছার সাথে সাথে বিক্ষোভে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকান। এছাড়া আগুন জ্বালিয়ে মিছিলে উত্তপ্ত করে তোলেন পুরো ক্যাম্পাস।বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট দপ্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস, মাইক্রো, মিনি ট্রাকসহ অন্তত ৫০টি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ রাত দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন থেকে সরে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত পৌনে একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নাম্বার গেইট হয়ে র‌্যাব ও পুলিশের বিশাল বহর প্রবেশ করে। তবে তারা ঘটনাস্থলে আসেননি। এর আগেই শিক্ষার্থীরা বিভক্ত হয়ে আন্দোলন থেকে সরে যান।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটাল ট্রেনটি বটতলী স্টেশন ছেড়ে যায়। ষোলশহর স্টেশনে ট্রেনটি থামলে, জায়গা না পেয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী ট্রেনের ছাদের ওঠেন। ৯টা ১২ মিনিটে ট্রেনটি চৌধুরীহাট স্টেশন অতিক্রম করলে গাছের ডালে ধাক্কা লেগে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে ট্রেনটি ফতেয়াবাদ স্টেশনে থামলে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী কেফায়েত  বলেন, শাটলে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত গাদাগাদি করে চলাফেরা করেন। শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে জানালেও এ বিষয়ে কখনোই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা ছাদে যাতায়াত করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার কারণে বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মাঝেমধ্যেই শাটলের ভেতরে জায়গা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ছাদে চড়ে যাতায়াত করেন। কয়েকদিন আগেই চৌধুরীহাট এলাকার একটি গাছের ঢাল নুয়ে পড়ে। এতে বৃহস্পতিবার বিকেলেও এক শিক্ষার্থী আহত হন। চট্টগ্রাম মেডিকলে কলেজ হাসপাতাল মেডিকেল অফিসার নিবেদিতা ঘোষ বলেন, আহতদের মধ্যে কয়েক শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের বেশিভাগেরই মাথায় এবং মুখে আঘাত রয়েছে।

আহতদের উদ্ধার করা এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ছাদ থেকে তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় নামিয়েছি। এরমধ্যে দুজনের মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছিল। অন্যজন পায়ে আঘাত পেয়েছে। ট্রেনের অন্য পাশে আরও কয়েকজনকে আহত অবস্থায় নামাতে দেখেছি। এদিকে রাত ১২টার দিকে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মাহবুবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. খায়রুল ইসলাম।

প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, শাটল ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। এটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমার প্রশাসনের শিক্ষকরা মেডিকেলে আমার সাথেই আছে। আমরা সবধরনের সহযোগিতা করছি। তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আর্থিক বিষয়সহ যা যা করা দরকার সবকিছুই প্রশাসন করবে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |