মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
চবি, প্রতিনিধি : শাহ আমানত হলে অবস্থান করেও ভাঙচুর মামলার আসামি চবির নূর মোহাম্মদ মান্না! চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভাংচুরের ঘটনায় না থেকেও মামলার আসামি করা হয়েছে নূর মোহাম্মদ মান্না নামে ২০-২১ সেশনের এক শিক্ষার্থীকে। মান্নার বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। মামলার আসামি হয়ে হতভম্ব মান্না নিজেই। অথচ উপাচার্যের বাসভবনে ভাংচুরের মামলার আসামি করা হয়েছে তাকে।
মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানান, ৭ ই সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে তার প্রেক্ষিতে আমার নামে ১০ লক্ষ টাকার চাঁদা দাবি ও ভিসি বাসভবন ভাংচুরের দায়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অথচ উক্ত ঘটনার সময় আমি ঘটনা স্থলে উপস্থিত ছিলাম না। উক্ত দিন শাটল আসার আগে থেকেই আমি স্টেশনে উপস্থিত ছিলাম। শাটল স্টেশনে পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পরেই দেখতে পাই জিরোপয়েন্টে শত শত শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের জন্য একত্রিত হতে শুরু হয় তখন আমি পরিস্থিতি দেখে আমার এক সিনিয়রের সাথে হলে চলে আসি।
তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা আমার মোবাইলের লোকেশন চেক করলেও জানতে পারবে আমি কোথায় ছিলাম। তাছাড়া আমার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে কাটাপাহাড় রোড, ভিসি বাসভবন, গেস্ট হাউজ, ট্রান্সপোর্ট এরিয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন সকল সিসিটিভি ফুটেজ চেক করার তিনি অনুরোধ করেন। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মান্না বলেন, ‘আমার নাম ভুলে দেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করবো, বিষয়টি তদন্ত করতে এবং যারা উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে ব্যাবস্থা নেওয়ার আহ্বান রইলো। আপনাদের একটি ভুলের জন্য নিরপরাধ কেউ যেন হেনস্থার শিকার না হয়।
মিথ্যা মামলা থেকে আমি মুক্তি চাই।’ এদিকে, গত শনিবার রাতে সামনে আসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন ও পরিবহন দপ্তরে গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় আসামিদের তালিকা। দুই মামলায় ১৪ আসামির ১২ জনই ছাত্রলীগের কর্মী। এর আগে শনিবার হাটহাজারী থানায় মামলা দুটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যেগুলোর বাদি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নুর আহমদ ও ভারপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক।
মামলার দুইটির এজহার অনুযায়ী আসামীরা হলেন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুইরেন্স বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল হোসেন আইমুন, সংস্কৃত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দীপন বণিক দীপ্ত, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রিয়াদ হাসান রাব্বি, ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মদ মান্না, ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ ভূইয়া, পালি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম, পদার্থবিদ্যা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম, হলেন দর্শন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন, পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইমরান নাজির ইমন, ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান, ইতিহাস বিভাগের বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাসির উদ্দিন মো. সিফাত উল্লাহ, সংস্কৃত বিভাগের ২০১৮-১৯ বিভাগের অনিক দাশ, বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ বিশ্বাস এবং একই বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষের আজিমুজ্জামান।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে শাটল ট্রেনের ছাদে যাতায়াত করতে গিয়ে গাছের আঘাতে অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হন। এর পরপরেই শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। এর মধ্যে আহত একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে জিরো পয়েন্টে অবস্থিত পুলিশ বক্স, উপাচার্যের বাসভবন, পরিবহন দপ্তরে ও শিক্ষক ক্লাবে ব্যপক ভাঙচুর চালান।