মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস চান চবির শিক্ষার্থীরা

রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস চান চবির শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম  বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাসের দাবি করেছেন তারা। সারা দেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হল গুলোকে রাজনীতি মুক্ত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায় আওয়ামী লীগ সরকার পতন না হওয়া পযন্ত হল গুলো ছাত্র লীগের দখলে ছিল।  হলে  থেকে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আধিপত্য বিস্তার করেছে। বিভিন্ন সময় চাপ প্রয়োগ করেছে শিক্ষার্থীদের উপর।  করেছে নির্যাতন, শোষণ উৎপীড়।
স্বৈরাচার সরকার পতন হওয়ার সাথে সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মরা। অনেক খোঁজাখুজির পর কাউকে পাওয়া যায়নি ক্যাম্পাসের আশে পাশে।ছাত্রলীগ মুক্ত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হলগুলো। সোমবার (৫ আগস্ট) চবির আবাসিক হলগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে এর বাইরে কোনো রুম থেকে একটি কাগজও নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সমন্বয়করা। পাশাপাশি হলগুলোতে কোনো রাজনৈতিক নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন থেকে থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা। চবির বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রাথমিক সফলতার বিজয় সমাবেশ ও র‍্যালি করেছে।মঙ্গলবার  (৬ আগস্ট)  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা চবি শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীসহ ক্যাম্পাসের আপামর জনসাধারণ এতে অংশ নিয়েছেন। সকাল ১১ টায়  বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিজয় মিছিল শুরু করেন।
মিছিল শেষে শহীদ মিনারে তারা সমাবেশ করেন। বিজয় র‍্যালি শেষ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা  বলেন,আজকে আমরা যে বিজয় নিয়ে এখানে দাড়িয়েছি সে বিজয় আমাদের ধরে রাখতে হবে।এই স্বাধীনতা আমাদের রক্ষ করতে হবে। না হলে হলে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টরা সরকার কায়েম করে আমাদের ছড়ে বসে।আমাদের কে শাসন করে, শোষণ করে। প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। তারা শিক্ষার্থীদেরকে কথা বলতে দেয় না।আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরে যত আন্দোলন করেছি এর পরের দিন তার জন্য আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এই হুমকি যাতে আমাদের না দিতে পারে, ভবিষ্যতে যে সরকার আসবে সেটা যেনো জনগণের সরকার হয় সেটা সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।আমাদের সব সময় সচেতন থাকতে হবে ক্যাম্পাসের হল গুলো যেনো আমাদের ছাত্রদের অধিকারে থাকে। ক্যাম্পাসে অতি শিগ্রই যেনো চাকসু চালু করা হয়। ক্যাম্পাসে কোন দলীয় রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে। অতি শিগ্রই যেনো চবি প্রশাসন হলো গুলোতে এলোটমেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কোন ধরনের রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন কে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইলে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
চবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম বলেন,যে রাজনীতির কারণে আমাদের ভাইদের জীবন চলে যায়, সেই রাজনীতি আমরা চাই না। আমরা সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগ ও ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করলাম। আমরা কোনো ছাত্র ভাই-বোন কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হবো না। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেমন ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করেছেন তা নিয়ে দশ দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের সেই দাবি গুলো হলো-
১) কোনো বিভাগে সেশনজট থাকবে না।  প্রতি বছর নভেম্বর মাসের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে হবে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ৩ সপ্তাহ পূর্বে টিউটোরিয়াল, প্রেজেন্টেশন শেষ করতে হবে এবং ৪ সপ্তাহ পূর্বে চখ দিতে হবে।
 মৌখিক (ভাইবা) পরীক্ষা শেষ হবার ৭৫ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।
২)  বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল  বিভাগের ভর্তি ফি,পরীক্ষা ফি সহ যাবতীয় আর্থিক লেনদেন
সেইসাথে পরীক্ষার ফলাফল অনলাইনে প্রকাশ করার ব্যবস্থা  নিতে হবে।
৩) আবাসিক হলগুলোতে  ঋধপঁষঃু ইধংবফ অষষড়ঃসবহঃ দিতে হবে। কোনো প্রকার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ  চলবে না।
৪) বিশ্ববিদ্যালয়ে  সকল ছাত্র রাজনীতি  এবং শিক্ষকদের রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
৫) শাটলে পাওয়ার কার যুক্ত করতে হবে। আমাদের ডেম্যু ট্রেন ফিরিয়ে দিতে হবে/ ট্রেনের সিডিউল বৃদ্ধি করতে হবে।
৬)  বিশ্ববিদ্যালয়কে “ওহঃবৎহধঃরড়হধষ জধহশরহম” এ স্হান দেবার  জন্য প্রয়োজনীয় জবংবধৎপয, চঁনষরপধঃরড়হং করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
৭) “চাকসু”  চালু করে  দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সমন্বয় ও মেলবন্ধনের সেতু হিসেবে শহরে  “ঞঝঈ” চালু করতে হবে।
৮) ক্লাসে শিক্ষক যথাসময়ে ঢুকবেন ,নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শেষ করে চলে যাবেন। কারণবশত ক্লাস নিতে না পারলে রাতের মধ্যে ঈজ দেরকে জানিয়ে দিবেন।
৯)  ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। জিরো পয়েন্ট ও ২ নং গেইটে নিরাপওা জোরদার করতে হবে।
১০) রক্তে অর্জিত স্বাধীনতায় কারও স্বেচ্ছাচারীতা মেনে নেয়া হবে না। প্রতিটি বিভাগে একটি করে অভিযোগ বক্স থাকবে।
উপরোক্ত ১০ দফা অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |