বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
নুর আলম সিদ্দিকী মানু: গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের লাগানো আগুনে পুড়লো জীপগাড়ি ও অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টার পর থেকেই শ্রমীকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কোনাবাড়ী, সফিপুর ও মৌচাক এলাকার আশপাশের শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে আন্দোলন শুরু করেন। এ সময় বেতন বৃদ্ধির দাবি জানান শ্রমিকরা ।
শ্রমিকরা তাদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় আন্দোলন করে । এ সময় মহাসড়কের উপরে থাকা একটি জিপ গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে অর্ধশতাধিক বাস-ট্রাকে ভাঙচুর চালিয়েছেন তারা।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিবেচনায় কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
ফায়ার সার্ভিসের কালিয়াকৈর স্টেশনের ডিউটি অফিসার হারুন প্রতিদিনের কাগজ’কে জানান, গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার হোসাফ মিটান কারখানার সামনে থেমে থাকা একটি জিপ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন শ্রমিকরা। গাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের উদ্যোগ গতি তাই আট হাজার টাকার ভেতরে কিছু হয় না তাদের, তাঁই তাদের বেতন ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা । দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে তাঁদের চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। মাস শেষ হওয়ার আগেই বেতনের টাকা ফুরিয়ে যাচ্ছে। একপ্রকার তাঁদের পরিবার পরিজনদের নিয়ে অমানবিক জীবনযাপন করতে হচ্ছে বলে আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান।
পুলিশ জানায়, শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে এই এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানায় আজ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন এর গাজীপুর মহানগর সভাপতি সফিউল ইসলাম গনমার্ধমকে বলেন, ‘শ্রমিকদের নিম্নতম মুজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে মজুরি বোর্ডের সভা চলমান রয়েছে। আমাদের আন্দোলন মজুরি বৃদ্ধির জন্য । আমরা শুনেছি মাথায় লাল কাপড় বেঁধে মোটরসাইকেলে করে কিছু মানুষ শ্রমিকদেরকে সহিংস আন্দোলনে নামার জন্য ইন্ধন দিচ্ছে। এখানে অন্য কোনো গোষ্ঠী যেন কোনো ইস্যু সৃষ্টি করতে না পারে বা রাজনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে শ্রমিকদের চলমান বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনের পরিস্থিতি সামাল দিতে ঝুকিপূর্ণ কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে দেখা যায়।