মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন

ইয়াবার ছোঁয়ায় পানচাষী থেক দুই ভাইয়ের সম্পদ

ইয়াবার ছোঁয়ায় পানচাষী থেক দুই ভাইয়ের সম্পদ

ইয়াবার ছোঁয়ায় পানচাষী থেক দুই ভাইয়ের সম্পদ

মনসুর আলম মুন্না , কক্সবাজার : সাহাব উদ্দিন ও মোহাম্মদ মিজান। বাড়ি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়া এলাকায়। বাবা মোহাম্মদ আলী পেশায় পানচাষী। সেই পান বিক্রি করেই চলতো সাহাব উদ্দিন ও মিজান। কিন্তু গেল কয়েক বছরে গড়ে উঠেছে সম্পদের পাহাড়। ঝুপড়ি ঘর থেকে হয়েছে ডু-প্লেক্স বাড়ি। দুই ভাইয়ের হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাওয়ার পেছনের গল্প মানুষের অজানা নয়। তবে কেউ প্রকাশ্যে বলতে চান না।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যম ও এলাকার উড়তি বয়সি যুবকদের হাতে হাতে চলে গেছে সাহাব উদ্দিনের ইয়াবা গণনার ছবি ও ভিডিও। যা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কলেজছাত্রের মুখোশের আড়ালে রয়েছে ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য। সম্প্রতি পাকস্থলীতে ইয়াবা এনে গণনার কিছু ছবি হাতে পেয়েছে এ প্রতিবেদক। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়মিত মাসোহারা দেন এই ইয়াবা কারবারি।

যেখানে দেখা যায়- কলাতলীর ঝিরঝিরি পাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে সাহাব উদ্দিন তার এক সহযোগীকে নিয়ে ইয়াবা গণনা করছেন। ইয়াবার ছোট ছোট বড়িগুলো যে পাকস্থলীতে বহন করা হয়েছে তা স্পষ্ট ছবিতে। ঠিক কত হাজার ইয়াবা সে বহন করেছে ওই চালানে তা নিশ্চিত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে আড়াই হাজার ইয়াবার চালান ছিল। যা উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিনে পাকস্থলীতে করে এনেছেন সাহাব উদ্দিন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন- ২০০৮ সাল থেকে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সাহাব উদ্দিন। তার দক্ষতা রয়েছে পাকস্থলীতে ইয়াবা বহনের। যার ফলে সহজে ধরাছোয়ার বাহিরে থেকে গেছেন। যে সকল কর্মকর্তার নজরে এসেছেন তাদের নিয়মিত মাসোহারা দেন। যার কারণে ওইসব কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। এই কারণে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে সিন্ডিকেট। তৈরি হয় ক্যাম্প কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট। যা এলাকার মানুষজনও জানে।

সুত্রটি আরও বলছে- সাহাব উদ্দিন গেল তিনবার জাতীয়তাবাদি ছাত্রদলের ঝিলংজা ওয়ার্ড কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। নাশকতাসহ নানামূখি কর্মকান্ডেও প্রথম সারিতে থাকেন। একটি ঝুপড়ি ঘর থেকে সাহাব উদ্দিনের সম্পদ এখন ৮টি ভাড়া বাসা, দামি বাইক, বাড়ি করেছে নিজের। তার সিন্ডিকেট এখন নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হোটেল-মোটেল জোনের মাদকের আস্তানাগুলো। যেখানে প্রতিদিন পথশিশুদের দিয়ে খুচরা ইয়াবা সরবরাহ করছেন। বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় হলেও মাসোহারা দেয়ার সুবাদে অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যান। যার কারণে অভিযানে সফল হতে পারে না পুলিশ।

সেই সুত্র ধরে অনুসন্ধানে গেলে তাঁর এলাকার লোকজন শিকার করে বলেন- সাহাব উদ্দিনসহ তাঁর পরিবার ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত শোনেছি, তবে তাদের চলাফেরা দেখে বুঝা যায় তারা মাদকের সাথে জড়িত। এলাকাবাসি বলছে- সাহাব উদ্দিন ও মিজানের বাবা মোহাম্মদ আলী পেশায় পানচাষী। থাকতেন ঝিরঝিরি পাড়া পাহাড়ে ঝুপড়িতে। হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যেতে শুরু করে। যার পেছনে ইয়াবা ব্যবসা। এখন ৪৩ টি ভাড়া ঘর, ২২ লাখ টাকা দামের জমি, লারপাড়া ও পুলিশ লাইন্সের পেছনে আরও তিনটি জমি। সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ এখন। সাহাব উদ্দিনের অপরাধের সেল্টার দেন ভাই মিজান। মাসোহারা দেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও।

সাহাব উদ্দিনের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি, কিন্তু তার মা ও বাবা ছিল। তার বাবা মোঃ আলীর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন- আপনারা কি জন্য এসেছেন আমরা জানি। আমার ছেলে বাসায় নাই। যা বলার আমাকে বলেন, না হয় চলে যেতে পারেন।

সাহাব উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন- আমি একজন শিক্ষার্থী। আমি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নেই, আমার সাথে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।দেখা করার কথা বলে ফোন বন্ধ করে দেন অভিযুক্ত সাহাব উদ্দিন। ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ ইউনূস বলেন- বিষয়টি আমার কাছে জানা ছিল না, তবে আমি তদন্ত করে দেখব। যদি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে, তাহলে আইনের কাছে সহযোগিতা নিব।

নিয়মিত মাসোহারা নেন পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা। যারা প্রতি মাসে তার আস্তানায় নিয়মিত যাতায়াত করেন। থানা থেকে অভিযানের খবর পাচার করেন ওইসব কর্মকর্তারা। যারফলে সফলতা আসে না অভিযানে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইন্টেলিজেন্স দুর্জয় বিশ্বাস বলেন- খবর পেয়ে একাধিকবার তার আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে। এখনো তার বাসার চারপাশে নজরদারি রেখেছে পুলিশ। যেকোন মুহুর্তে গ্রেফতার হবে এই মাদক কারবারি। যে ছবি তা পুলিশের কাছেও রয়েছে। কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ এর কোম্পানী কমান্ডার এডিশনাল এসপি আনোয়ারুল ইসলাম শামীম বলেন- বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ছায়াতদন্ত শুরু করেছে। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |