বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

হালুয়াঘাট – কলমাকান্দা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসছে চিনি – শাড়ি

হালুয়াঘাট – কলমাকান্দা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসছে চিনি – শাড়ি

খাইরুল ইসলাম আলামিন : নেত্রকোনার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসছে ভারতীয় চিনি। চোরাকারবারি চক্র প্রায় দের বছর ধরে এ তিন উপজেলার কয়েকটি সীমান্ত পথ দিয়ে এসব চিনি আনছে।

চোরাকারবারিদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকা বিজিবি। তবে হালুয়াঘাট, ফুলপুর ও তারা তারাকান্দা ময়মনসিংহ নগরীতে প্রতিনিয়তই ঢুকছে। প্রায় সময়ই দেখা যায়, চেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) এই চক্রদের আটক করেন।

অভিযোগ আছে, গত দেড় বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ভারত থেকে অবৈধ পণ্য সীমান্ত দিয়ে আসছে। আটক করা হয় বড় চালান মামলা দেওয়া হয় কম দিয়ে। গত এক বছরে জেলা গোয়েন্দা সংস্থার হাতে ভারতীয় শাড়িও আটক করেছেন। তারপর সংবাদ করে জানানো হয়।

এ তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চোরাকারবারিরা প্রতিদিন চিনি ও শাড়ি এনে ময়মনসিংহ শহরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করছে।

৫০ কেজি ওজনের প্রতিটি বস্তা ভারত সীমান্ত থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা দরে কিনে শ্রমিকের খরচসহ সব মিলিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়। এসব বস্তা সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পাঁচ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। চিনির বস্তা সীমান্ত থেকে স্থানীয় বাজারে আনতে ‘লাইনম্যান’সহ পুলিশের মাশোহারা এবং স্থানীয় কিছু ব্যক্তিকে টাকা দিতে হয়।

কলমাকান্দার লেংগুরার কাঁঠালবাড়ি ও সাত শহীদের মাজার সীমান্ত এলাকার দুজন চোরাকারবারি নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, চিনি আনতে চোরাকারবারিরা দুর্গাপুরের ভরতপুরের গাজীকোনা; বারোমারির লক্ষ্মীপুর, বিজয়পুর; চণ্ডীগড়ের ফেচিয়া; কলমাকান্দার লেংগুরা ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ি, জগন্নাথপুর, চেংগ্নী, সাত শহীদের মাজার, কালাপানি, তকলেটবাড়ি; খারনৈ ইউনিয়নের বৌ-বাজার, বলমাঠ, কচুগড়া; রংছাতি ইউনিয়নের পাতলাবন, পাঁচগাঁও, সন্ন্যাসীপাড়া, বেতগড়া, জাকিরপাড়া, নক্লাই, রামনাথপুরসহ বিভিন্ন সীমান্ত পথ ব্যবহার করে। প্রথমে সীমান্ত থেকে সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ইজিবাইকে করে দুর্গাপুর বাজার, কলমাকান্দা বাজার ও নাজিরপুর বাজারে কিছু ব্যবসায়ীর গুদামে এসব চিনি মজুত রাখা হয়। পরে পিকআপ ভ্যান ও ছোট ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, চিনির সঙ্গে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনী, চকলেট, বিস্কুট, মসলা, পোশাক, শাড়ি গাড়ির যন্ত্রাংশ, মদ, ফেনসিডিলসহ মাদকও আসছে।

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কলমাকান্দায় বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকে করে চিনির বস্তা নাজিরপুর ও কলমাকান্দায় নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর গুদামে জমা করছেন কিছু লোক।
তারা জানান, হালুয়াঘাট হয়ে প্রতিদিন প্রায় কয়েকশো ট্রলি ও ট্রাকে করে ময়মনসিংহ শহরসহ সারাদেশে পাঠানো হয়।

কলমাকান্দার লেংগুরা বাজার এলাকায় বুধবার বিকেলে দেখা যায়, শাহ আলম নামের এক ব্যক্তি পুলিশের কথা বলে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে প্রতি বস্তায় ১০০ টাকা করে নিচ্ছেন। আর নাজিরপুর মোড়ে বৃহস্পতিবার মো. সুজন মিয়া নামের এক যুবক নিচ্ছেন ৫০ টাকা করে। টাকা নেওয়ার কারণ হিসেবে তাঁরা দুজনই এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে কিছু চিনি আসছে। এ জন্য সবকিছু ম্যানেজ করতে হয়।

হালুয়াঘাট, তারাকান্দা ও ফুলপুর নুরু নামে এক ব্যক্তি পুলিশের কথা বলে প্রতি গাড়ি থেকে ৮০০ শত টাকা তুলেন। তাদের চাহিদা মত টাকা না দিলে ডিবি পুলিশ দিয়ে আটক করিয়ে হয়রানি করেন। আটক করলেই মেলে মোটা অংকের টাকা।

ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি ) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘পুলিশের নাম ভাঙিয়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এ ব্যাপারে পুলিশের জিরো টলারেন্স। কেউ করলে তালিকা দিন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |