মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক অতলে হারাতে বসেছে বর্তমান আধুনিক সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থায়

শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক অতলে হারাতে বসেছে বর্তমান আধুনিক সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থায়

শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক অতলে হারাতে বসেছে বর্তমান আধুনিক সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা

বিশেষ প্রতিনিধি:

শিক্ষক নামটি শুনলেই আঁতকে উঠি। যতদূর মনে পড়ে ১৯৭৬/৭৭ সালে কান্দানিয়া গুতারিপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাবার হাত ধরে প্রাথমিক শিক্ষার শুভ সূচনা ঘটেছিল।ঐ সময় প্রধান শিক্ষক হিসেবে ছিলেন প্রয়াত মহসিন স্যার। সহকারী শিক্ষক হিসেবে ছিলেন প্রয়াত আ: হক স্যার, ফজলুল হক স্যার এবং হাবিব স্যার। মহসিন স্যার অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় কথা বলতেন। পড়াতেন সন্তানের মতো করে। আবদুল হক স্যার একটু শব্দ ও স্পষ্ট করে পড়াতেন। ভালই লাগতো। ফজলুল হক স্যার অত্যন্ত মিশুক মানুষ ছিলেন। সর্বদা হাসিমুখে কথা বলতেন। হাবিব স্যার একটু কঠিন ছিলেন।সবাই ভয়ে তটস্থ থাকতো। অত্যন্ত ভালো পড়াতেন।এই চার জন স্যারের হাত দিয়ে বহু ছাত্র ছাত্রী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হয়েছেন। ফজলুল হক স্যার এবং হাবিব স্যার আজো জীবিত আছেন। তবে বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছেন। এই দুই স্যারের দীর্ঘায়ু কামনা করি। মহসিন স্যার ও হক স্যার পরলোক গমন করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বেহেশত নসিব করুন। ৭০ দশকের শিক্ষক মহোদয়গণ অত্যন্ত সহিষ্ণু হৃদয়বান ও শিক্ষার্থী বান্ধব ছিলেন। স্যারদের অনুপ্রেরণায় অনেকেই উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে থাকেন।যা চির সত্য বলে আজও প্রতীয়মান। শিক্ষক শ্রেণি কক্ষে শিক্ষা জীবনের বাস্তবতা উপলব্ধি করার সবক দিয়ে থাকেন। সত্য মিথ্যার পার্থক্য বুঝাতে সচেষ্ট হন।

প্রবাদে আছে ” শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড” কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে এখন বলতে হয় ” সুশিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড “। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সেই জাতি তত বেশি উন্নত।যে জাতি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে নাই সে জাতির ধ্বংস অনিবার্য। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান, প্রযুক্তি নির্ভরশীলতায় শিক্ষাকে এখন চোখের পাতায় নিয়ে গেছে।যেমন স্মার্টফোন আই সিকিউরিটি সিস্টেমে চলে। মহামতি লেলিন এর একটি উক্তিতে দেখতে পাই ” আমাকে একটা শিক্ষিত মাতা দাও , আমি একটা শিক্ষিত জাতি উপহার দিব “। কেউ কেউ বলে থাকেন একশত শিক্ষকের চাইতে ও একজন শিক্ষিত মাই উত্তম। বিশ্বের সর্বোচ্চ আসনের বহু বিজ্ঞানী মায়ের কাছে পড়ে পৃথিবীর সেরা হয়েছেন। আমার আজকের আলোচনা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে।

শিক্ষক শব্দের পূর্ণ রূপ হচ্ছে শি = শিষ্টাচার ক্ষ= ক্ষমা ক= কর্তব্য।
শিক্ষক শব্দের ইংরেজি হচ্ছে Teacher
T= talent, tolerant
E= elegant, energetic, educated efficient
A= awesome, adorable
C= charming,carring
H= helpful,helper
E= excellent
R= responsible, running

উপরোল্লেখিত প্রতিটি ইংরেজি শব্দের অর্থের সাথে একজন আদর্শ শিক্ষকের অসাধারণ মিল পরিলক্ষিত হয়। একজন উত্তম শিক্ষক সম্পর্কে
Alexandra K Trenfor বলেন ” the best teacher are those who show you where to took but don’t tell you what to see”
so we can say that ” the best teacher teach from the heart, not from the book.

শিক্ষক মানেই জাতির আলোকবর্তিকা বাহি মানব জাতির রুপকার।তাই শিক্ষক দিবসের উক্তি গুলো এ রকম, A great teacher is like a Candle it consumes itself to light the way for other’s.

এ জন্যই শিক্ষককে বলা হয় ” the teacher is a maker of man “আলবার্ট আইনস্টাইন এর বিখ্যাত উক্তি টি ছিল নিম্নরূপ ” সৃজনশীল প্রকাশ এবং জ্ঞানের মধ্যে আনন্দ জাগ্রত করা হলো শিক্ষকের সর্ব প্রধান শিল্প” ।
শিক্ষকদের নিয়ে ছোট একটি কবিতায় এ রকম বলা যায়—-
আমি শিক্ষক
আমি রক্ষক মর্যাদার।
আমি নতুনের কেতন ওড়ানো
বাঁশির সুর।
আমি নব পল্লব এর উর্বরতা
সুমধুর।

ফ্রান্সের বিপ্লবী দার্শনিক তথা শিক্ষাবীদ
রুশো বলেন
” The child is a book which the teacher is to read from page to page.”

“এসো ভাই বোন এসো শিখি লেখাপড়া
সবে মিলে মিশে চাই দেশটাকে গড়া “।
” শিক্ষা ছাড়া গতি নাই
চল সবাই মিলে পড়তে যাই “।

ছাত্র/ ছাত্রী এর ইংরেজি Student
যা ভাঙলে হয়
S= smart
T= thoughtful
U= understanding
D= disciplined
E= energetic
N=notable
T= telented person

ছাত্র জীবন সম্পর্কে আলফা টিওয়ারি বলেন ” ছাত্র জীবন হলো সোনালী সময় যে সময়ে সোনার কোনো দরকারই পড়েনা” ।
এপিজে আবুল কালাম আজাদ বলেন ” রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ মস্তিষ্কের মানুষ গুলোকে ক্লাসের শেষ বেঞ্চিতে ই পাওয়া যায়” ।

শিক্ষা জীবনের সোনালী সময় শুরু হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে সকল ছাত্ররা শিক্ষক এবং মাতা পিতার সঠিক পরিচর্যা পেয়ে থাকেন তারাই মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করে থাকেন।আর মাধ্যমিকে যারা ভালো করে তারা কলেজের ফলাফল ভালো করেন । এভাবেই কোনো এক সময় শিক্ষার্থী তার জীবনের লক্ষ্যে উপনীত হয়ে দেশ সেবায় নিয়োজিত হন।তাই ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য বুঝাতে গিয়ে কবি বলেন।

” আমরা শক্তি আমরা বল
আমরা ছাত্রদল
মোদের পায়ের তলায় মুর্ছে তুফান
উর্ধ্বে বিমান ঝড় বাদল।
আমারা ছাত্রদল “।

ছাত্র শিক্ষকের অতীত ও বর্তমান সম্পর্ক:- শিক্ষকের কল্যাণ ধর্মী স্নেহ ধণ্যতায় শিক্ষার্থীর জীবন বিকশিত হয়। শিক্ষকের প্রদর্শিত পথে জ্ঞান আহরণ করে হয়ে উঠে জ্ঞানীগুণী ও খ্যাতিমান। শিক্ষকের অকৃত্রিম আশির্বাদ পুষ্টে উন্নত জীবন বিনির্মাণের স্বপ্ন লালন করে ছাত্র শিক্ষকের পরম পবিত্র সম্পর্ক গড়ে ওঠে। উভয়েই মহত্ত্বের এক সাবলীল সম্পর্কের বিকাশ ঘটায়।
৭০/৮০ এর দশকের ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক ছিল পরম আত্মীয়ের। নিজের মানস শিষ্য বলে ছাত্রদের বিবেচনা করে শিক্ষক সর্বোত্তম জ্ঞান দান করতেন। অপরদিকে শিক্ষার্থী যে অকৃত্রিম শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে শিক্ষকের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করতেন তা তার বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে দেখতেন। এভাবেই ছাত্র শিক্ষকের মধ্যে একটা অনাবিল সম্পর্কের পরিষ্ফুটন ঘটতো অতীত দিনগুলোতে । বর্তমান আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কের অতীত আর খুঁজে পাওয়া যায় না। শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। ছাত্র শিক্ষক উভয়েই প্রযুক্তি নির্ভর। বিজ্ঞানের আশীর্বাদ পুষ্টে সম্পর্কের ঘাটতি

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |