বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

টেকনোক্রেট মন্ত্রী হলেন যারা

টেকনোক্রেট মন্ত্রী হলেন যারা

জাহাঙ্গীর আলম রাজু : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিনের মাথায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে। ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা সাজিয়েছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে। তাদের মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী। আর ১১ জন পাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। ইতোমধ্যে শপথের জন্য সবাইকে ফোন করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে ফোন পেয়েছেন আ ক ম মোজাম্মেল হক, ওবায়দুল কাদের, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডা. দীপু মনি, মো. তাজুল ইসলাম, ফারুক খান, আবুল হাসান মাহমুদ আলী, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ড. হাছান মাহমুদ, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, সাধন চন্দ্র মজুমদার, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, আব্দুর রহমান, নারায়ন চন্দ্র চন্দ, আব্দুস সালাম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ফরহাদ হোসেন, ফরিদুল হক খান, জিল্লুল হাকিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও নাজমুল হাসান পাপন।

টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রী হচ্ছেন- ইয়াফেস ওসমান এবং ডা. সামন্ত লাল সেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে বেগম সিমিন হোসেন রিমি, নসরুল হামিদ বিপু, জুনাইদ আহমেদ পলক, মোহাম্মদ এ আরাফাত, মহিববুর রহমান, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাহিদ ফারুক, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বেগম রুমানা আলী, শফিকুর রহমান চৌধুরী, আহসানুল ইসলাম টিটু ফোন পেয়েছেন।

স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এর আগে নবম সংসদে ২০০৯ সালে প্রথম তৎকালীন বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালে দশম সংসদেও তিনি একই দায়িত্ব পান। পরে ২০১৫ সালে তাকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী করা হয়। এরপর ২০১৯ সালে একাদশ সংসদে পুনরায় তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

অন্যদিকে সামন্ত লাল সেন এবারই প্রথম মন্ত্রিসভায় ডাক পেলেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেশবরেণ্য এই চিকিৎসক গণমাধ্যমকে বলেন, ফোন পাওয়ায় তিনি খুবই আশ্চর্য হয়েছেন।সামন্ত লাল সেন বলেন, এ ঘটনায় আমি খুবই আশ্চর্য হয়ে গেছি। আমি জানি না আমি কতটুকু পারব। বার্ন নিয়ে আমি কাজ করি। সেখানে নতুন করে আবার একটা দায়িত্ব, দেখি। এখনো বলতে পারছি না!

বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারিতে দেশের পরিচিত মুখ ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলাদেশে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটগুলোর সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন।

ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম বার্ন বিভাগ চালু হয়। সামন্ত লাল সেন সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন ১৯৪৯ সালের ২৪ নভেম্বর হবিগঞ্জের নাগুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন সামন্ত লাল সেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সার্জারিতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |