বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
সাগর দেব, আমিরাত: ২০৩৩ সাল নাগাদ অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দুবাই। এ লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অঞ্চলটি ডি-৩৩ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। এ সময়ে শহরটি বাণিজ্যিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেবে। এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুবাই ৩২ লাখ কোটি দিরহাম বা ৮ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, দুবাইয়ে আমাদের তিন লক্ষাধিক বিনিয়োগকারী রয়েছেন। আমি সবাইকে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির শহরগুলোর একটিতে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
দেশটির নতুন ঘোষিত ডি-৩৩ পরিকল্পনায় প্রায় ১০০টি রূপান্তরমূলক প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেননা দুবাই সরকার আমিরাতটিকে বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনৈতিক শহরের মধ্যে দেখতে চায়। ডি-৩৩ পরিকল্পনার আওতায় বৈদেশিক বাণিজ্য আগামী ১০ বছরে ২৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি দিরহামে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। খাতটি থেকে গত এক দশকে দেশটির অর্জিত হয়েছে ১৪ লাখ ২০ হাজার কোটি দিরহাম। দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ পৃথক একটি টুইটে লেখেন, দুবাই ২০৩৩ সালের মধ্যে ৬৫ হাজার কোটি দিরহাম বা তার বেশি অর্থনীতির শহর হবে। এজন্য আগামী দশকে প্রতি বছর গড়ে ৬ হাজার কোটি দিরহাম প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ২০৩৩ সালের মধ্যে দেশটির সরকারি ব্যয় ৭০ হাজার কোটি দিরহাম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত দশকে এর পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ২০০ কোটি দিরহাম।
বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগামী দশকে দেশটি ১ লাখ কোটি দিরহামে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে এ খাতে গত ১০ বছরে ৭৯ হাজার কোটি দিরহাম বিনিয়োগ পেয়েছিল শহরটি। প্রাক্কলন বলছে, পণ্য ও পরিষেবা খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদার মূল্য ২০৩৩ সালের মধ্যে ৩ লাখ কোটি দিরহামে পৌঁছবে। গত এক দশকে যার পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২০ হাজার কোটি দিরহাম। একই সময়ে দেশটির অর্থনীতিতে ডিজিটাল রূপান্তর প্রকল্পগুলো ১০ হাজার কোটি দিরহাম অবদান রাখবে। গত নভেম্বরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বার্ষিক সভায় শেখ মোহাম্মদ ‘উই দ্য ইউএই ২০৩১’ পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। এ সময় ২০৩১ সালের মধ্যে ইউএইর জিডিপি ৩ লাখ কোটি দিরহামে পৌঁছানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুবাইয়ের শাসক শেষ মোহাম্মদ। জ্বালানি তেলবহির্ভূত রফতানি ও পর্যটন খাত থেকে এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে। ঘোষিত ওই পরিকল্পনায় ইউএইর সামাজিক, অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।