মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার
“বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই স্লোগান নিয়ে র্যাব যুব সমাজ তথা বাংলাদেশকে মাদকের ভয়াল থাবা, সন্ত্রাস, জঙ্গী, ছিনতাই, ডাকাতি, জুয়া, অপহরণ, খুন, ধর্ষণ, অসাধু অস্ত্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ধরণের অবৈধ কর্মকান্ড থেকে রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশব্যাপী আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণের সাথে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বস্তরের জনগনের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে র্যাব। গত ০৭ মার্চ ২০২৩ খ্রি তারিখ সকাল অনুমান ০৯.৩০ ঘটিকার সময় আটপাড়া থানাধীন শুনই ইউনিয়নের ভুরভুরিয়া গ্রামের জনৈক সুলতু মিয়ার ডোবা জমিতে অজ্ঞাতনামা লাশ দেখতে পেয়ে এলাকার লোকজন আটপাড়া থানা পুলিশকে ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উক্ত লাশ উদ্ধার করে।
উক্ত অজ্ঞাতনামা লাশের সংবাদ পেয়ে নিহত মোঃ কাইয়ুম (২৯), পিতাঃ মৃত আরব আলী, গ্রামঃ সুনদাইল, থানাঃ নান্দাইলের বড় ভাই সহ পরিবারের লোকজন থানায় এসে লাশ সনাক্ত করেন। পরে নিহতের বড় ভাই মোঃ শাহজাহান(৩৬) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে আটপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-১৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, গত ০৫/০৩/২০২৩ খ্রি. তারিখ সকাল অনুমান ১০.৩০ ঘটিকায় নিহত কাইয়ুম (২৯) অটোরিক্সা নিয়ে বাড়ী হতে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে, মৃত কাইয়ুম (২৯) বাড়ী না ফিরলে তার পরিবারের লোকজন খোজাঁখুজি শুরু করে।
পরবর্তীতে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া থেকে গত ০৯/০৩/২০২৩ খ্রি. তারিখ অনুমান ১৬০০ ঘটিকায় উক্ত হত্যাকান্ডের মূলহোতা মোঃ বাবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় যে, সে সহ তদন্তের স্বার্থে নাম অপ্রকাশিত আরো ২/৩ জন আসামী ভিকটিম কাইয়ুম (২৯) কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে, মামলা সুষ্ঠুভাবে তদন্তের স্বার্থে উক্ত অজ্ঞাতনামা আসামীদের নাম, ঠিকানা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। উক্ত অটোরিকশা মোঃ বাবুল মিয়াসহ আরো ২/৩জন আসামী ইয়াছিন মিয়া(২৯), পিতা- মোঃ নিজাম উদ্দিন, সাং ও থানা-ধর্মপাশা জেলা-সুনামগঞ্জের কাছে ৪০,০০০ টাকায় বিক্রি করেন। ইয়াসিন আবার এই অটোরিকশাটি আসামী মোঃ ফাজিল মিয়া(৩৫), পিতা-সুমন মিয়া, সাং-ভাটিলালপুর,
থানা-জামালগঞ্জ, জেলা-সুনামগঞ্জের কাছে ৫৫,০০০/- টাকায় বিক্রি করেন। ফাজিল উক্ত অটোরিক্সা আসামী আমির হোসেন (৩৩), পিতা-মহাজ উদ্দিন, গ্রাম: চাঁনপুর, থানা-জামালগঞ্জ জেলা-সুনামগঞ্জের কাছে ৭০,০০০/- টাকায় বিক্রি করেন। আমির উক্ত অটোরিক্সা পুণরায় কিবরিয়া (৩২) এর নিকট ৭২,০০০/- টাকায় বিক্রি করেন। চাঞ্চল্যকর এই ক্লুলেস হত্যাকান্ডটির রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে র্যাব-১৪ এর চৌকস আভিযানিক দলটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ০৯/০৩/২০২৩ ইং তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ১৯০০ ঘটিকার সময় ধৃত আসামী মোঃ বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা থেকে মোঃ নিজাম উদ্দিনের ছেলে ইয়াছিন মিয়া(২৯)কে এবং একই জেলার জামালগঞ্জ থেকে মহাজ উদ্দিন এর ছেলে মোঃ আমির হোসেন (৩২) কে গ্রেফতার করে এবং আমির হোসেন এর তথ্য মতে একই উপজেলার কিবরিয়ার দোকান হতে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য গ্রেফতারকৃত মোঃ বাবুল মিয়া এবং ইয়াছিন এর নামে আরো অটোরিকশা চুরিসহ অন্যান্য মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বর্ণিত ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। এছাড়াও উপরোক্ত ঘটনার মতো যাতে আর কোন ঘটনার না ঘটে সে প্রেক্ষিতে র্যাবের টহল তৎপরতা ও গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন।