মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন
তৌহিদ বেলাল
চট্টগ্রামের ২৬টি পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাস করছে ৬ হাজার ৫৫৮ টি পরিবার। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এসব বসবাসকারীদের সরাতে শিগগিরই চালানো হবে উচ্ছেদ অভিযান। নতুন করে বসতি স্থাপন ঠেকাতে বিচ্ছিন্ন করা হবে সেখানকার বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংযোগ।
জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়ের সংখ্যা মোট ২৬ টি। ওইসব পাহাড়ে সবমিলিয়ে ৬ হাজার ৫৫৮ টি পরিবার অবৈধভাবে বসবাস করছে। এর মধ্যে ব্যক্তি মালিকানার ১০ টি পাহাড়ে ৩৮৩ টি পরিবার ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মালিকানার ১৬ টি পাহাড়ে ৬ হাজার ১৭৫ টি পরিবার বসবাস করছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন- ‘পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই সরিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া নতুন করে বসতি স্থাপন ঠেকাতে সেখানকার পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে’।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অতিসম্প্রতি ‘শক্তিশালী পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ওই সভায়।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক হিল্লোল বিশ্বাস বলেন- ‘নির্বিচারে পাহাড় কেটে, পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধন করে যারা বসতি গেঁড়েছে, তাদের উচ্ছেদ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে’।
জানা গেছে, সকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রণয়ন করে জেলা প্রশাসনের নিকট জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব তালিকা হাতে পেলে শিগগিরই জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবে।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন- ‘পাহাড়ে অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারীরা যতোই শক্তিশালী হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবেনা। তাদের উচ্ছেদ করা হবেই’।
তিনি বলেন- ‘অতীতে বিভিন্ন সময় পাহাড় ধসে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় প্রণীত সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করা হবে’।
অবৈধ বসতি উচ্ছেদে কোন বাধা এলে তা শক্তভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিভাগীয় কমিশনার