মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা: সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আচরণ বিধি মানাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে সরকারি সুবিধাভোগী এসব ব্যক্তিরা যাতে দলীয় বা অন্যকোনও কার্যক্রমে অংশগ্রহণে আচরণবিধি মেনে চলে।
তা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় পার্টির মহাসচিবকেও চিঠি দিয়েছে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। রবিবার (৩০ এপ্রিল) এই চিঠি দেওয়া হয় বলে ইসির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) আশাদুল হকের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এদিকে ইসির উপসচিব আতিয়ার রহমানের সই করা আরেক চিঠিতে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আজমত উল্লা খানকে শোকজ করা হয়েছে। তাকে আগামী ৭ মে নির্বাচন কমিশনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, আগামী ২৫ মে অনুষ্ঠেয় গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আজমত উল্লা খানকে মনোনয়পত্র দাখিলের প্রাক্কালে সভা, মিছিল, শোভাযাত্রা ও শোডাউন করার ফলে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে কেন তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে না, অথবা তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৭ মে বিকাল ৩টায় নির্বাচন কমিশনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে।
সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধী দলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের সমপদমর্যাদার কোনও ব্যক্তি, সংসদ-সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উল্লেখ করে এসব ব্যক্তিবর্গ যাতে দলীয় কার্যক্রম গ্রহণকালে, অথবা অন্য কোনও কার্যক্রম গ্রহণে আচরণবিধি মেনে চলেন, তার জন্য পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিবকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যাতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণকালে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলেন, তার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্বাচন কমিশন বিশেষভাবে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্রমণসূচি জারি করেছেন উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। বিষয়টি অবহিত হয়ে রিটার্নিং অফিসার দুই মন্ত্রীর একান্ত সচিবদেরকে নির্বাচনি আচরণবিধির বিষয়টি মৌখিকভাবে ও চিঠি দিয়ে অবহিত করেন।
এরপরও মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণায় বা নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করার জন্য সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালায় বিধান রয়েছে।
তাছাড়া আচরণ বিধিমালায় সভা সমিতি অনুষ্ঠান, যানবাহনসহকারে মিছিল বা মশাল মিছিল, ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচার, প্রকল্প অনুমোদন, ফলক উন্মোচন ইত্যাদি না করার বিষয়ে বিধান রয়েছে।