বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক : আর্থিক সুবিধা নিয়ে অবৈধভাবে লোকবল নিয়োগের অভিযোগে সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মুহাম্মাদ গালীব খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র এ প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বর্তমানে গালীব খান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। নতুন করে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ আসায় একই সঙ্গে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।
২০২২ সালের ১২ অক্টোবর গালীব খান ও তার স্ত্রী ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের ট্রেড অপারেশন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট তানিয়া সুলতানা রাখির নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক।
মামলায় গালীব খানের বিরুদ্ধে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে ২ কোটি ১৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ও তার স্ত্রী তানিয়া সুলতানা রাখির বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৫২০ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গালীব খানের নিজ নামে রাজধানীর খিলগাঁও, মেরাদিয়ায় ১৪১৬ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও ফরিদপুরে ৬২ শতাংশ জমিসহ ৩৪ লাখ ৬৩ হাজার ৮০০ টাকায় স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তাছাড়া তার নামে এফডিআর ও সঞ্চয় হিসাবসহ স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ২ কোটি ৭৬ লাখ ৫২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য পায় দুদক। এছাড়াও গালীব খানের নামে শেয়ার বিনিয়োগ পাওয়া যায় ১ কোটি ২৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। ওই টাকাসহ ২ কোটি ১৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পায়নি দুদক।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী তানিয়া সুলতানা রাখির নিজ নামে ফরিদপুরের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ২৫৪ শতাংশ জমি, রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ৩.৫০ কাঠা জমি, বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে সাড়ে ৩ কাঠার প্লট এবং ধানমন্ডির ৭নং রোডের অ্যালায়েন্স প্রপার্টিজ লিমিটেড থেকে কেনা একটি ফ্ল্যাটসহ ১ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে চালু করা এফডিআর, পারিবারিক সঞ্চয়পত্র, শেয়ারে বিনিয়োগ, নিজ নামে বিভিন্ন ব্যাংকে চালু করা সঞ্চয় ও চলতি হিসাবে টাকা জমা, গাড়ি কেনাসহ মোট ৬ কোটি ২৪ লাখ ১২ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। সবমিলিয়ে ৭ কোটি ২৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৪ কোটি ৪২ লাখ ৬৮ হাজার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া গেলেও ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৫২০ টাকার সম্পদের স্বপক্ষে কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মুহাম্মাদ গালীব খান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। দুদক কিসের ভিত্তিতে এগুলো করছে, জানি না। তারা একই তথ্য কয়েক জায়গায় দেখিয়েছে।’
এ বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তরুণ কান্তি সিকদার বলেন, ‘গালীব খানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। সেখান থেকে অব্যাহতি পাওয়ায় পর তিনি পদোন্নতি পান।’ তদন্ত শেষে দুদক গালীব খানের মামলায় অভিযোগপত্র দিলে তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানা এ কর্মকর্তা।