বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
নিজেস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর ডেমরায় গত বছরের ২৮ অক্টোবর দিবাগত গভীর রাতে অছিম পরিবহণের বাসে আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপির তিন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারও করেছে সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ বিভাগের অ্যান্টি ইলিগ্যাল আর্মস অ্যান্ড ক্যানাইন টিম। গ্রেফতাররা হলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম মনির ওরফে মনির মুন্সি, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. সাহেদ আহমেদ এবং বিএনপি কর্মী ও মনির মুন্সির ব্যক্তিগত ড্রাইভার মাহাবুবুর রহমান সোহাগ। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টুরোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মো আসাদুজ্জামান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, মনির মুন্সি নির্দেশদাতাদের থেকে নির্দেশনা পেয়ে এই কাজ শুরু করেন। তিনি আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন। দলের আরও বড় পদ পাওয়ার প্রত্যাশায় ছিলেন তিনি। ঘটনার নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নির্দেশদাতাদের নাম আমরা পেয়েছি। তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তাদেরও গ্রেফতার করা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের বিষয়ে এখনই কোনো তথ্য বলব না। সিটিটিসি প্রধান বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের উদ্দেশে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি রাজধানীর পল্টন এলাকায় নারকীয় তাণ্ডব চালায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা সেদিন প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা ও পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করার মতো জঘন্য কাজসহ অসংখ্য গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। তারই ধারাবাহিকতায় ২৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে ডেমরার দেইল্লা বাসস্ট্যান্ডে রাখা অছিম পরিবহণের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। তাদের দেওয়া আগুনে ওই বাসে ঘুমিয়ে থাকা হেলপার মো. নাইম ঘটনাস্থলে পুড়ে মারা যান এবং অপর হেলপার মো. রবিউল দগ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন। এ ঘটনায় ডেমরা থানায় একটি মামলা হয়। গত বছরের ১১ নভেম্বর মামলাটি সিটিটিসিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলাটি তদন্ত শুরু করে সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ বিভাগের অ্যান্টি ইলিগ্যাল আর্মস অ্যান্ড ক্যানাইন টিম।