ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন চ্যানেল এস-এর তরুণ সাংবাদিক তরিকুল শিবলী।হঠাৎ করেই স্ত্রীর কোল ও দুই কন্যাকে ফেলে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
মাত্র চার বছরের ছোট্ট আয়াত মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলল আমার বাবাকে আল্লাহ নিয়ে গেছেন। বাবা আর আসবেন না, তাই আমি মা আর ছোট বোনের খোঁজ রাখব। এই হৃদয়বিদারক শব্দে উপস্থিত সবাই কেঁদে ফেললেন।
ছাত্রশিবিরের নজিরবিহীন উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসছে সারা দেশে। যেখানে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিক সংগঠন নীরব, সেখানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এগিয়ে এসে দেখালো মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত। নিহত সাংবাদিকের পরিবারের হাতে ২ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছে সংগঠনটি। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতের প্রতিটি প্রয়োজনেও পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তারা।
ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস এস এম ফরহাদ বলেন—আমরা আপাতত দুই লক্ষ টাকা দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, এই পরিবারটির প্রতিটি মুহূর্তে পাশে থাকবো। সাংবাদিক সমাজে আলোড়ন সৃষ্টিকারী পদক্ষেপে একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেগঘন কণ্ঠে মন্তব্য করেন--- ছাত্রশিবিরকে ভালোবাসার জন্য দল করতে হয় না। তাদের এ মানবিক কাজ সবাইকে ভালোবাসতে বাধ্য করবে।
মানবতার আলো ফুটলো বাবাহারা শিশুদের চোখে।বড় বড় দল যেখানে চুপ, সেখানে ছাত্রশিবিরই দাঁড়ালো শোকার্ত পরিবারের পাশে। বাবা-হারা শিশুদের মুখে আশার আলো জ্বেলে দিয়ে ছাত্রশিবির ইতিহাস গড়ল মানবতার দৃষ্টান্তে।নিহত সাংবাদিক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক সমাজে কৃতজ্ঞতার জোয়ার মানবিক এই পদক্ষেপে কেঁপে উঠলদেশজুড়ে আলোচনার ঝড়, ইতিহাসে লেখা রইল ছাত্রশিবিরের ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতি।
আপনার মতামত লিখুন :